18/01/2026
জানুয়ারি ০৫, ২০২৫
সময় সন্ধ্যা ৬.১৫/৬.৩০, বাঁধন তখনও হসপিটাল পৌঁছায়নি। ৩০২ নম্বর রুমে আম্মুকে ডায়ালাইসিস দেয়া হচ্ছিলো। আমি একটু পর পর মাথায় বাতাস করে দিচ্ছিলাম (ডায়ালাইসিসের সময় আম্মুর খুব গরম লাগত তাই এসি, টেবিল ফ্যানের সাথে হাত পাখা দিয়েও বাতাস করতে হত)।
বুঝতে পারছিলাম আম্মুর অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই বুঝ দেবার জন্য বলছিলাম একটু পরেই তোমার রাজপুত্র চলে আসবে, আমি আবার কাল তোমাকে জ্বালাতে আসব (একদিন রাতে আমি আর একদিন রাতে বাঁধন থাকত)। আমার এসব কথা শুনে আম্মু বলত তোরা তিনজন থাকলেই আমি খুশি।
বাঁধন তখনও পৌঁছায়নি, এদিকে আমি ঘুমের জন্য অস্থির। ছোট্ট সোফাতে ঠিক মত ঘুম হত না তার উপর টেনশন কবে আম্মুকে সুস্থ করে বাসায় নিতে পারব! এই ঘুমের জন্য আমি অনেক দিনই, ২৪ ঘন্টা শুধু এক মগ দুধ পান করে কাটিয়ে দিয়েছি।
কি মনে হল আম্মুকে বললাম আসো মা, বেটি মিলে একটা ছবি তুলি। আমি আম্মুর হাতটা ধরে যখন ছবিটা তুলছিলাম তখন কেন যেন মনে হচ্ছিল এটাই আম্মুর সাথে আমার তোলা শেষ ছবি হবে (সত্যিই তাই হয়েছে)।
আজ ৩৬৬ দিন তুমি নেই! আমি এখনও মেনে নিতে পারি না যে, তোমাকে আর দেখতে পাব না, হুটহাট জড়িয়ে ধরে আদর করতে পারব না, রাগ দেখাতে পারব না (আমার রাগ একমাত্র তুমিই বুঝতে)।
*** রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।