13/01/2026
ফ্রুট কেকের ইতিহাস: ইংল্যান্ড থেকে ভারত
ফ্রুট কেকের ইতিহাস খুবই প্রাচীন। এর শুরু ইউরোপে হলেও পরে এটি ইংল্যান্ড হয়ে ভারতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডে ফ্রুট কেকের উৎপত্তি
ফ্রুট কেকের সূচনা হয় প্রাচীন রোমান যুগে। তখন রোমান সৈন্যরা যাত্রাপথে শক্তি পাওয়ার জন্য যব, মধু, বাদাম ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি কেক সঙ্গে রাখত।
পরবর্তীকালে মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে কেক তৈরিতে মাখন, ডিম, চিনি, শুকনো ফল ও নানা মশলা যোগ হয়।
১৬–১৮ শতকে ফ্রুট কেক ইংল্যান্ডে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি বিশেষ করে—
বড়দিন (ক্রিসমাস)
বিয়ে
উৎসব ও আনন্দানুষ্ঠানে
খাওয়ার রীতি গড়ে ওঠে।
শুকনো ফল ও চিনি থাকার কারণে এই কেক দীর্ঘদিন ভালো থাকত। স্বাদ ও সংরক্ষণের জন্য অনেক সময় ব্র্যান্ডি বা রাম ব্যবহার করা হতো।
ভারতে ফ্রুট কেকের আগমন
ব্রিটিশ শাসনকালে (১৮–১৯ শতক) ইংরেজরা ভারতে আসে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে আসে ইউরোপীয় খাবার ও বেকিং পদ্ধতি। তখনই ফ্রুট কেক ভারতে পরিচিত হয়।
ভারতীয় বেকাররা এই কেক নিজেদের মতো করে তৈরি করতে শুরু করেন। এতে যোগ হয়—
কাজু, কিশমিশ, বাদাম
দারচিনি, লবঙ্গ, জয়ফল
রাম বা ওয়াইন (বিশেষত কেরালায়)
ভারতে জনপ্রিয়তা
ভারতে ফ্রুট কেক বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়—
ক্রিসমাস উৎসবে
চার্চ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে
চা-নাশতার খাবার হিসেবে
কেরালা রাজ্য প্লাম কেকের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত, যা মূলত ফ্রুট কেকেরই একটি রূপ।
বর্তমান সময়
আজ ফ্রুট কেক শুধু একটি বিদেশি খাবার নয়, বরং এটি ইংরেজ ঐতিহ্য ও ভারতীয় স্বাদের সুন্দর মেলবন্ধন। এখন এটি সারা ভারতজুড়ে নানা উৎসব ও বিশেষ দিনে খাওয়া হয়।