25/08/2025
কিছুদিন আগেই Flavour Kolkata-র পক্ষ থেকে Sohini Ganguly -র জন্য অনেক যত্নে আর ভালোবাসায় বানিয়েছিলাম কিছু চকোলেট, ওর মাতৃত্বের যাত্রাপথকে কেন্দ্র করেই। সেই ছবি ভিডিও আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন আমাদের দুজনের প্রোফাইলেই। তাতে উজাড় করে দিয়েছেন আপনাদের ভালোবাসা।
অনাগত অতিথির জন্য অধীর আগ্রহ আর অনাবিল আনন্দে অপেক্ষা করছিল হবু মা বাবা এবং তাদের পরিবার। আমি নিজেও অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম।
কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন হয় কাল একটা খবরে। খবর বা ঘটনাটা কী সেটা আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন। তাই আলাদা করে আমি আর সেকথা লিখতে চাইছি না। [ওঁর পরিবারের একজনই ঘটনার কথা পোস্ট করে, তাই তার সত্যতা আছে ধরে নিয়েই সকলে যা বলার বলছেন, আমিও সেই ভিত্তিতেই লিখছি।]
তবে আমি যা বলব সেটা এই প্রসঙ্গেই। আজকের দিনে যেখানে বেশিরভাগ মানুষেরই ব্যক্তিগত জীবন আর যাপনের বিভিন্ন ঘটনাই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অনেকটাই পাবলিক, সেখানে দূর থেকে কয়েকটা পোস্ট, ভিডিও বা ছবি দেখে কাউকে বিচার/ 'judge' করা খুব সহজ। কাজেই এরকম একটা ঘটনার পরেও দেখছি চারিদিকে নানানরকম পোস্ট।
কয়েকজন সত্যিই নিজেদের খারাপ লাগার কথা জানিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন ওদের, কিন্তু কেউ কেউ আবার চালটে 'VIEWS' আর 'REACH'-এর জন্য এই ঘটনাতেও ওদের Maternity Photoshoot-এর ছবি দিয়ে লিখছেন 'NAZAR IS REAL', কেউ আবার বলছেন, "সব ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি! এইজন্য বেশি দেখাতে নেই!" কেউ আবার সোহিনী দির baby Bump-এ আঁকা জগন্নাথ দেবের সেই ছবি দিয়ে বিতর্ক টেনে এনে সেটাকেই দায়ী করছেন!!
আর এগুলো করছে কারা? দুর্ভাগ্যবশতঃ কিছু মহিলারাই!
কাজেই এসব দেখেশুনে কিছু না বলে আর পারলাম না!
কারণ আমার কাছে ব্যবসা, টাকা-পয়সা, VIEWS, REACH এসবের চেয়েও অনেক অনেক বড় আমার মনুষ্যত্ব আর আদর্শ। তাই এই দলে যদি আমার কোনো ক্লায়েন্ট বা পোটেনশিয়াল ক্লায়েন্টও থাকেন; তাহলে আমি তাদেরও বলব, আপনাদের একটুও লজ্জা করে না??? লজ্জা করে না এমন পরিস্থিতিতেও চারটে VIEWS কামিয়ে নিতে? লজ্জা করে না এগুলো পোস্ট করে তার নীচে কমেন্ট বক্সে নিজেকে সাবস্ক্রাইব করার কথা বলতে??
লজ্জা করে না নিজেদেরকে মানুষ বলতে?
এতে যদি আপনারা আমার কাছ থেকে ভবিষ্যতে কিছু নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেটা বাতিল করে দেন, তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। কারণ এই ধরণের মানসিকতার লোকেদের নিয়ে আমার ব্যবসার ইমারৎ গড়তে আমার নিজেরও লজ্জাই করবে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, এসব ফালতু কথা আর নীচু মানসিকতার মধ্যে বেমালুম চাপা পড়ে যাচ্ছে আসল কারণের কথা। আপনারা দায় চাপাচ্ছেন সদ্য সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া একজন মায়ের ওপর? আবার 'নজর ইজ রিয়্যাল'? এতটা অশিক্ষিত হওয়ার পরেও এসব নিয়ে জ্ঞান দিতে আটকায় না একটুও??
ঘেন্না করে না আয়নায় নিজেদের দেখলে? ঘেন্না করে না এমন কদর্য একটা মন নিয়ে বাঁচতে?
সব শেষে বলি, সোহিনী দির বাড়িতে আমি নিজে গিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন, কাউকে তেলিয়ে বা তোষামদ করে চলা আমার ধাতে নেই। তাই বানিয়ে কিছুই বলছি না। ওদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিটা মানুষের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। অতএব দূর থেকে দেখে কে কী বলবেন আমি জানি না, তবে একদম কাছ থেকে ওদের দেখে যে অমায়িক ব্যবহার, আন্তরিকতা আর যত্ন পেয়েছিলাম তাতে ওরা কেমন মানুষ সে সম্পর্কে ধারণা করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ঈশ্বর অনেকসময় ভালো মানুষদেরই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন। আর আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর কিছু নিলে একদিন তা দুহাত ভরে ফিরিয়েও দেন। তাই এই চরম দুঃসময়টাও ওরা নিশ্চয়ই কাটিয়ে উঠবে, আবার হাসবে, ভালো থাকবে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়েও মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের কষ্টে সেই মেয়েটিকেই দোষারোপ করে, নিজেদের অন্ধকার জগতের কুসংস্কারের বোঝা আর চাপিয়ে দেবেন না দয়া করে।
অতএব কী করলে কী হত না, কেন এমন হলো এ নিয়ে নিজেদের অযাচিত মন্তব্য আর গবেষণা বন্ধ করে একটু সহমর্মী হন, সমব্যথী হন, আর VIEWS, REACH, LIKE, FOLLOW,SHARE, SUBSCRIBE-এর হিসেবের বাইরেও মানুষের জীবন আছে, একটা পৃথিবী আছে সেটা বুঝুন।
P.S- ছবিতে সোহিনী দির এই হাসিমুখটাই থাক। খুব শিগগিরই আবার এভাবেই হাসতে দেখব ওকে এটুকুই প্রার্থনা।