20/12/2021
আজকে আমি বেসিক ইস্ট ডো নিয়ে আলোচনা করবো. সাথে একটা Nutella rose bread'র রেসিপি ফ্রি! হাহাহাহা! বেসিক ইস্ট ডো বিভিন্ন ধরনের বান ,ব্রেড,স্টাফড ব্রেড বা বান ,স্যাভরি এবং সুইট সব ধরনের ব্রেড বা বান যেমন চিকেন বন থেকে শুরু করে বাটার বান ,দেশি স্টাইল পিজ্জা থেকে সিনামন রোলস ,মোটামুটি সব ক্ষেত্রে প্রজোয্য ডো আর এ ব্যাপারে টেক্নিক গুলো নিয়ে আলোচনা করব.
বেসিক ইস্ট ডো বলা হচ্ছে কারন এই ডো গুলো ইস্টের মাধ্যমে ফারমেন্ট করে করা হয়ে থাকে. প্রথমে আলোচনা করা যাক ইস্ট নিয়ে.
ইস্ট একধরনের ছত্রাক যা গরমে এক্টিভেটেড হয় বা কাজ করে. তাই ইস্ট দিয়ে তৈরী রেসিপিতে দেখা যায় ডো প্রস্তুত করার সময় হালকা গরম পানি এবং ডো বা খামির টাকে বন্ধ বক্সে রেখে গরম কোন জায়গায় রাখার কথা বলা হয় যাতে খামির টা ফুলে উঠে আয়তনে দ্বিগুন হয়ে যায়. এই দ্বিগুন করে ফুলে উঠানোর কাজ করে এই ইস্ট .
ইস্ট ব্যাবহারের কিছু বেসিক জানতে হবে;
১. ইস্টের জন্য গরম পানি বা লিকুইড দরকার হলেও তা যেনো কখনো আগুন গরম না হয় বা খুব বেশি গরম না হয়. খুব গরম পানিতে ইস্ট মরে যায় ফলে আর কাজ করতে পারবে না.
এখন একদম ঠান্ডা বা রুম টেম্পেরেচারের পানি বা লিকুইডেও ইস্ট রাইজ করবে না. কোন কাজই করবে না.
তাই সব সময় হালকা গরম পানি ব্যাবহার করতে হবে.
২. লবন ইস্টের শত্রু.লবনের সংস্পর্সে আসার সাথে সাথে যেমন ইস্ট মরে যায়, ঠিক তেমনি মিষ্টি জাতীয় জিনিষের সংস্পর্শে ইস্ট দ্রুত কাজ করতে পারে .
তাই ডো টা করার সময় লবনের সরাসরি সংস্পর্শে যেনো ইস্ট না আসে. আবার ডোতে তাই কিছু চিনি বা অন্য কোন মিষ্টি (যেমন মধু) উপাদান থাকে.
সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানোর জন্য ময়দার সাথে প্রথমেই লবন মিশিয়ে নেয়া ভাল.
৩. বর্তমানে মোটামুটি সবাই ইন্সট্যান্ট ড্রাই ইস্ট ব্যাবহার করি. তাই আলাদা করে ইস্ট কাজ করে কিনা ,তা পরীক্ষার দরকার নেই. সরাসরি ব্যাবহার করা হয়.
তবে যদি ড্রাই ইন্সট্যান্ট ইস্ট না হয় তবে সরাসরি ময়দার সাথে না মিশিয়ে আলাদা করে এক্টিভেইট করতে হয়.
এক্ষেত্রে একটি পাত্রে অল্প হালকা গরম পানি ,চিনি আর ইস্ট মিশিয়ে ঢেকে রাখতে হবে. গরম কোন জায়গায় রাখলে ভাল.১০-১৫ পরে ফুলে উঠলে বুঝতে হবে ,ইস্ট কাজ করছে.
যে ক্ষেত্রে, যেমন ইস্ট পুরোনো হয়ে গেলে ,কাজ করছে কিনা বলে সন্দেহ থাকলে এই টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া যায়.
৪ . আগেই বলেছি,পুরোনো ইস্টের কার্য ক্ষমতা কমতে থাকে . তাই খুব বেশি পুরোনো ইস্ট ব্যাবহার না করাই ভাল.
আমি যেই ডো এর রেসিপি দিব তা আসলে রিচ ডো মানে ময়দা,চিনি,লবন আর ফ্যাট ছাড়াও এই ডো টা ডিম,কিছু বাড়তি ফ্যাট এবং ডেইরি, যেমন দুধের কারনে রিচ.
যেকোন ব্রেড ,বান তৈরীর সময় পর্যায়গুলো মাথায় রাখা দরকার.
১. মিক্সিং (mixing): সব উপকরন সুন্দর ভাবে,দরকারি জিনিষ গুলো মাথায় রেখে মিক্স করা উচিত. যেমন লবন যেন সরাসরি ইস্টের সংস্পর্শে না আসে ,ইস্টের খাদ্য চিনি ব্যাবহার করা. ড্রাই ইন্সট্যান্ট ইস্ট না হলে বা পুরোনো ইস্ট নিয়ে সন্দেহ থাকলে আগে ইস্ট এক্টিভেইট করে নেয়া,খুব গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যাবহার না করা ইত্যাদি. সব উপকরন সুন্দর ভাবে মিক্স করে নেয়াটা জরুরি.
ব্রেড ,বানের জন্য করা ডো বা খামির যেনো নরম হয়. শক্ত খামির এর রুটি শক্ত হয়. নরম বলতে কিন্তু একদম স্টিকি তেমন নয়. মাঝারি নরম.
২. নিডিং(kneading) বা মথে নেয়া: খুবই জরুরি. সব উপকরন মিক্স করে নিয়ে কম্পক্ষে ১২-১৫মিনিট মথে নিলে সব চেয়ে ভাল. যত ভাল মথা হবে তত নরম ব্রেড বা বান.
কখন বুঝবেন ,ভাল মথা হয়েছে? ডো টা বেশ চকচকে ,নরম লাগবে. আংুলের ডগা দিয়ে হালকা চাপ দিলে জায়গাটা বসে গিয়ে আবার ফিরে আসবে.যেটাকে ইংরেজিতে বলে spring back.
৩. প্রুফিং (proofing): খামির বা ডোয়ের বলটাকে হালকা তেল মাখিয়ে একটা গ্রিজড মানে তেল মাখানো এয়ার টাইট বক্সে করে দিগুন হয়ে ফুলে উঠার জন্য কিছুটা গরম জায়গায় রাখা হয়. একে বেকিংয়ের ভাষায় বিকে প্রুফিং.
খুব বেশি গরম জায়গায় রাখলে কিন্তু ইস্ট মরে যাবে. তাই ইংরেজিতে যাক বলে warm,এমন তাপ্নাত্রায় রাখলে ভাল.
রান্নাঘরে চুলার কাছাকাছি রাখা যেতে পারে কিন্তু তাপ যেনো সরাসরি না লাগে.
শীতের দিনে , ফুলে উঠতে সময় লাগে. গরমে দিনে যেখানে ১ ঘন্টাতেই ফুলে উঠে, সেখানে শীতের দিনে ২/৩ ঘন্টাও লাগতে পারে.
কোন সময় ওভার প্রুফিং করবেন না. এতে একটা ইস্টের গন্ধ আসে এবং রুটি ,বান,বা ব্রেড খুব ডেন্সড হয়. হালকা ব্যাপারটা থাকে না.
৪. পাঞ্চিং ডাউন ( punch down):
প্রুফিং হয়ে গেলে হাতের মুঠি দিয়ে হালকা হালকা পাঞ্চ করে ভিতরের সব বাতাস বের করে ফেলতে হয়. তাতে বান বা ব্রেডের টেক্সচার ভালো হয়,ক্লোজড ক্রাম্ব হয়. মানে বড় বড় ফুটো থাকে না. খুব মসৃন, সমান হয়.
যদিও সব রুটির বেলায় পাঞ্চিং মেথড প্রজোয্য নয়. যেমন,Ciabatta, foccacia এই রুটি গুলোর টেক্সচার হলো বড় বড় হোল বা ফুটো থাক্তে হয়, সেই সব ব্রেড এর ক্ষেত্রে ফোল্ডিং মেথড প্রজোয্য. যাক এটা এখনকার সাথে সম্পৃক্ত নয়.
আমাদের দরকার পাঞ্চ ডাউন করে সব বাতাস বের করে ফেলা.
৫. শেইপিং (shaping): পছন্দ মত শেইপ করে নিন.
৬. সেকেন্ড প্রুফিং (second proofing): শেইপ করা হয়ে গেলে বেইক করার ট্রেতে বেইক এর জন্য সাজিয়ে বেইক না করে আবার ঢেকে রেখে ,দ্বিতীয়বার ফুলে উঠার জন্য রাখা হয়. একে বলে সেকেন্ড প্রুফিং.
কতক্ষন রাখা হবে? ২০-২৫ মিনিট .এর বেশি নয়. এরপরই বেইক করতে হবে.
কেন সেকেন্ড প্রুফিং? এতে ভলিউম যেমন বেশি হয় ,তেমনি,টেক্সচার খুব ভাল আসে ,ফ্লেভার ইম্প্রুভ করে. খেয়াল রাখতে হবে ওভার প্রুফিং যেনো না হয়.
৭.বেইকিং(baking): এখন বেইক করুন. ব্রেড বা বান বেশি তাপ্নাত্রায় অল্প সময় বেইক করুন. যত বেশি বেইক করবেন, তত শক্ত এবং টাইট হয়ে যাবে.
সাধারনত ৩৮৫-৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে বেইক করা হয়ে থাকে.
আবারও বলছি,ওভারবেইক করবেন না. ব্রেডের সুন্দর গন্ধ বের হলেই বুঝবেন ব্রেড প্রায় তৈরী.
বেসিক ইস্ট ডো :
২ এবং ১/৪ কাপ ময়দা
২ চা চামচ ইস্ট
২ চা চামচ চিনি
১ চা চামচ লবন
১ টেবিল চামচ পাউডার মিল্ক
১ টা ফেটানো ডিম
৪ টেবিল চামচ তেল+ নরম বাটার বা ঘি (৩ টেবিল চামচ তেল+১ টেবিল চামচ নরম মাখন বা ঘি)
২/৩ থেকে ৩/৪ কাপ হালকা গরম তরল দুধ বা দুধ এবং পানি মিশানো
অন্যান্য উপকরণ :
ডিমের কুসুম এর সাথে ১ চা চামচ দুধ মিশিয়ে রাখা (এগ ওয়াশের জন্য)
কিছু তেল
প্রনালী :
১. সব উপকরন একসাথে মিশিয়ে একটা মাঝারি নরম ডো তৈরী করুন.লিকুইড একবারে ঢালবেন না. কম বেশি লাগতে পারে.
২. ভালভাবে ১০-১৫ মিনিট মথুন.
৩. একটা বল বানিয়ে ,হালকা তেল মাখিয়ে একটা তেল মাখানো এয়ার টাইট বক্সে করে গরম জায়গায় দ্বিগুন হয়ে ফোলার জন্য রাখুন.
৪. দ্বিগুন হয়ে ফুলে উঠলে হাতের মুঠি দিয়ে হালকা ভাবে পাঞ্চ করে করে সব বাতাস বের করে ফেলুন.
আমি আজকে Nutella rose bread এর রেসিপি দিচ্ছি এই জন্য,
১) ছোট ছোট অনেক গুলো বল করুন. বড় থেকে ছোট এভাবে ৪ টা বেলে নিন. সব গুলোর উপর নুটেলা স্প্রেড করুন. কেউ সিনামন স্পাইস পছন্দ করলে ছড়িয়ে দিতে পারেন. বড় থেকে ছোট প্রত্যেকটি একটি আরেকটার মাঝে বরাবর রেখে রোল করে নিন. মাঝ বরাবর কেটে অর্ধেক করুন. দুটো গোলাপ হবে.
আমি এই গোলাপ এর টিউটরিয়াল ভিডিওর লিনক দিচ্ছি.
২. এরকম ৮-৯টা গোলাপ করেন. কোন গোল প্যানে গ্রিজ করে পার্চমেন্ট পেপার বিছিয়ে নিন. গোলাপ গুলো একটু দুরে দুরে রাখুন. সেকেন্ড প্রুফিংের জন্য ফুলে উঠলে আপনা আপনি লেগে যাবে. ব্রেড গুলোর উপরে ডিমের ফেটানো কুসুম ব্রাশ করে দিন.
৩. সেকেন্ড প্রুফিংয়ের জন্য ২০-২৫ মিনিট ঢেকে রেখে দিন.
৪. অভেন এই সময় ৩৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে প্রিহিট হতে দিন.
৫. ২০-২৫ মিনিট বেইক করুন. ওভার বেইক করবেন না.
৬. বেইক হবার সাথে সাথে বাটার ব্রাশ করে ক্লিং ফিল্ম বা প্লাস্টিক দিয়ে প্যানটা ঢেকে রেখে দিন. কমপক্ষে আধা ঘন্টা. এতে ময়েশ্চার লক হয়ে ব্রেড গুলো ময়েস্ট থাকবে.