কণ্ঠকানন

কণ্ঠকানন “কণ্ঠকানন আবৃত্তি সংসদ”
শ্রীপুরের প্রথম ও এক মাত্র আবৃত্তি সংগঠন
শ্রীপুর,মাগুরা

17/03/2026

বঙ্গবন্ধু
---অন্নদাশঙ্কর রায়

যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান,
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রু গঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান,
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

11/03/2026

যদি বাসোই
--- তসলিমা নাসরিন

তুমি যদি ভালোই বাসো আমাকে,
ভালোই যদি বাসো,
তবে বলছো না কেন যে ভালো বাসো!
কেন সব্বাইকে জানিয়ে দিচ্ছ না যে ভালোবাসো!
আমার কানের কাছেই যত তোমার দুঃসাহস!
যদি ভালোবাসো, ওই জুঁইফুলটি কেন জানে না
যে ভালোবাসো!
ফুলটির দিকে এত যে চেয়ে রইলাম, আমাকে
একবারও তো বললো না যে ভালোবাসো!
এ কীরকম ভালোবাসা গো!
কেবল আমার সামনেই নাচো!
এরকম তো দুয়োর বন্ধ করে চুপি চুপি
তুমি যে কারও সামনেই নাচতে পারো।
আমি আর বিশ্বাস করছি না, যতই বলো।

আগে আমাকে পাখিরা বলুক,
গাছেরা গাছের পাতারা ফুলেরা বলুক,
আকাশ বলুক, মেঘ বৃষ্টি বলুক, রোদ বলুক
চাঁদের আলো বলুক, নক্ষত্ররা বলুক,
পাড়া পড়শি বলুক, হাট বাজারের লোক বলুক, পুকুরঘাট বলুক, পুকুরের জল বলুক যে
তুমি ভালোবাসো আমাকে!
শুনতে শুনতে যখন আর তিষ্ঠোতে না পারবো
তখন তোমাকে ওই চৌরাস্তায় তুলে একশ
লোককে দেখিয়ে চুমু খাবো, যা হয় হবে।

ভালোবাসা কি গোপন করার জিনিস!
দেখিয়ে দেখিয়েই তো
শুনিয়ে শুনিয়েই তো ভালোবাসতে হয়।
ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাঁকালো উৎসব করবো,
ধেই ধেই নাচবো, নাচাবো
সুখবর বুঝি আমরা চারদিকে
ঢোল বাজিয়ে জানিয়ে দিই না!
জুইঁফুলটি যেদিন বলবে যে তুমি আমাকে
ভালোবাসো, সেদিনই কিন্তু তোমাকে বলবো যে
তোমাকেও বাসি, তার আগে একটুও নয়।

01/03/2026

তোমার কথাই শুধু
--- শক্তি চট্টোপাধ্যায়

তোমার কথাই শুধু ঘুরে ফিরে আসে এই মুখে
এখনো কি তোমার চিবুকে
আছে সেই তিল
সেকালে পোশাকে ঝিলমিল
তুমি যেতে গোলাপবাগানে
কথা হতো সবই কানে কানে
এখন সকলি এলোমেলো
দোতলার করিডোরে শ্বাসরুদ্ধ কে যে করে বেলো !

মাঝে মাঝে সহসা হাতছানি
যে ডাকে অস্পষ্টভাবে, তাকে আমি স্পষ্টভাবে জানি।
যাবো নাকি?
দুই পা বাড়ালে পাবো তোমাদের প্রতিভাত ফাঁকি কাগজের ফুল গেঁথে আশা করা পরাধীন টবে
সে কি সহ্য হবে
কাগজের ফুল গেঁথে আশা করা পরাধীন টবে
স্বভাবজ বন
বরং স্টেশন থেকে ফিরে এসো তুমিও এখন
কী পাবে বিদেশে—রাজধানী ?
তুমি যত জেনেছিলে, আমি তাকে স্পষ্ট করে জানি।
আমাদের মাঝে ছিলো সেতু
তুমি পার হওনি যেহেতু
চেয়েছিলে নাকি
যোগাযোগহারা থাক হৃদয়ের অসংখ্য জোনাকি ?
তুমি বোঝো সব
তোমার প্রতিই আছে আমার বিখ্যাত অনুভব
আজো আমি জানি
রাজত্ব তেমন নয়, যেমন বিখ্যাত রাজধানী !

28/02/2026

অহংকার
---- হেলাল হাফিজ

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।

তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।

উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।

28/02/2026

আকাশ দেখার অধিকার।
--------সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এক ফোঁটা অন্ধকার দিয়ে তুমি কপালে একটা টিপ পরে নিলে
আজকাল তো কালো টিপ আর চালু নেই
কেন না কালো লিপস্টিক হয় না বোধহয়
দুই বাহুমূলে লাগিয়ে নিলে ধূপের ধোঁওয়া
এখন ধূপ তো ঠাকুর ঘরের বাইরে আর দেখি না
ঠাকুর ঘরগুলোও মিলিয়ে যাচ্ছে রান্নাঘরের সঙ্গে
রাস্তায় কাঁচুমাচু ছেলেরা ধূপ বিক্রি করতে এসে ভিখিরি হয়ে যায়
এক আঁজলা বৃষ্টির জলে কুলকুচো করে নিলে তুমি
বৃষ্টির জলে কত পলিউশান তোমার মনে পড়ল না
খোঁপায় গুঁজে নিলে গুঞ্জাফুলের মালা
আঁচল খুলে বুকে মেখে নিলে মেঘ ভাঙা জ্যোৎস্না
নাভিতে প্রতিফলিত চাঁদের টুকরো
তম্বুরার মতন দুই নিতম্বে কামিনী ফুলের ঘ্রাণ
যোনিপথে ওঁং ধ্বনি
পায়ের পাতায় রক্ত চন্দনের আভা
আঃ কতগুলো যুগ কেটে গেল, এখনো তোমার যোগ্য হয়ে
উঠতে পারলাম না আমি
আজ আবার এসেছ পরিহাসের অপূর্ব উন্মাদনায়
আমার চোখ ঠেকবে মাটিতে
যেন আমার আকাশ দেখার অধিকার নেই আর নেই!

28/02/2026

তুমি ফিরবে
--- সমরেশ মজুমদার

তুমি ফিরবে কোন একদিন
হয়তো নীলিমায় হারানো কোন এক নিষ্প্রভ
বেলায়।
নতুবা কোন এক নবীন হেমন্তে,
এক নতুন দিনের নির্মল খোলা হাওয়ায়।
অথবা কোন এক শ্রাবণের দিনে
অহরহ ঝরা ঘন কাল মেঘ বৃষ্টির
মুহু মুহু নির্ঝর খেলায়।
তুমি ফিরবে কোন এক রাতে
পূর্ণিমার ভরা জোছনায়।
তুমি ফিরবে জানি বহুদিন পরে
হয়তো বা হাজার বছর পরে।
কোন এক নিঃস্ব হৃদয়ে,
লক্ষ্য প্রাণের ভিড়ে, তুমি ফিরবে।
বহুরুপে সেই প্রাণে, অনেক নবীনের ভিড়ে,
তোমার আমার গড়া ভালবাসার নীড়ে।

27/02/2026

কষ্ট হয়
---- মহাদেব সাহা

তুমি বোঝো না, আমার কষ্ট হয়, আজ তোমার ক্লাস
কাল পরীক্ষা, পরশু গানের স্কুল
এই যে সারাদিন আজ বৃষ্টি, তোমাদের রেনিডে হয় না, তোমার গানের মাস্টারের সর্দিজ্বর হয় না কখনো,
কী আশ্চর্য, একদিনও পরীক্ষা বাতিল হয় না তোমাদের?
সবকিছুর জন্য সময় হয়, শুধু আমার জন্য বছরের
পর বছর এক মুহূর্ত সময় হয় না. তোমার
পাবলিক লাইব্রেরির মোড়ে, কনকর্ডের সিঁড়িতে,
শিল্পকলার বারান্দায়
এক মিনিটও দাঁড়াতে পারো না তুমি,
যখনই দেখি তুমি শুধু দৌড়াচ্ছো, নদীর স্রোতও কখনো
কখনো থেমে থাকে
তোমার ছোটা থামে না,
আজ পরীক্ষা, কাল নোট করা, পরের দিন লাইব্রেরি,
তার পর দিন বাড়িতে অতিথি
তুমি এতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এই অবুঝ গোলাপ ফুলটা
সে কথা বুঝলো না,
বলো এই গোলাপ ফুলটিকে আমি কী বলি?
ছয় মাসে যখনই তোমাকে কফি হাউসের দিকে
একবার আসতে বলি
তুমি মাথা দুলিয়ে বলো, কাল পরীক্ষা,
আজ একটু পরেই বাইরে থেকে ফোনে
একটা জরুরি কল আসবে
কবে তোমার এইসব নোট, টিউটোরিয়াল, মোবাইল বোটানিকাল গার্ডেনের ঝোপের মধ্যে ফেলে দেবে?
তুমি বোঝো না, হাতের এই গোলাপ ফুলটির দিকে
তাকিয়ে আমার কী কষ্ট হয়'।

26/02/2026

তাহারেই পড়ে মনে
-----সুফিয়া কামাল

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”
কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”

কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,
বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”
কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-
“নাই হ’ল, না হোক এবারে-
আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-
রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”

কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”
কহিল সে পরম হেলায়-
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরি আসি-
“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”

26/02/2026

ভালোবাসার সংজ্ঞা
----- রফিক আজাদ

ভালোবাসা মানে দুজনের পাগলামি,
পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;

ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,
বিরহ-বালুতে খালিপায়ে হাঁটাহাঁটি;

ভালোবাসা মানে একে অপরের প্রতি
খুব করে ঝুঁকে থাকা;

ভালোবাসা মানে ব্যাপক বৃষ্টি, বৃষ্টির একটানা
ভিতরে-বাহিরে দুজনের হেঁটে যাওয়া;

ভালোবাসা মানে ঠাণ্ডা কফির পেয়ালা সামনে
অবিরল কথা বলা;

ভালোবাসা মানে শেষ হয়ে-যাওয়া কথার পরেও
মুখোমুখি বসে থাকা।

25/02/2026

অপেক্ষা
--- মহাদেব সাহা

তোমার একটু দেখা পাবো বলে
এককোটি বছর দাঁড়িয়ে আছি
এই চৌরাস্তায়
শুধু একবার দেখবো তোমাকে
শুধু তার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা
এই ঢেউ গোনা ;
কতো অশ্রুজল শুকালো দুচোখে
কত শীতগ্রীষ্ম পার হয়ে গেলো
অপেক্ষা ঘুচলো না,
এক ঝলক দেখার জন্য হদ্দ গেঁয়োর মতো
দাঁড়িয়ে আছি আমি রাস্তার উপর
চক্ষুলজ্জা নেই ;
তোমার একটু দেখা পাবো বলে
জীবনের সবকিছু ফেলে
এখানে এলাম
দাঁড়ালাম মাঝপথে পাগলের মতো
পথে পথে ছড়ালাম ফুল
বিছালাম তৃণ ;
তোমাকে দেখার জন্য এই অনন্ত অপেক্ষা
দীর্ঘ পর্যটন, দীর্ঘ পথ হাটা
পথে পথে ঘুরে মরা,
তোমাকে একটু দেখতে পাবো বলে
বুদ্ধের মতন আমি ঘর ছাড়া
পথের বাউল ;
শুধু একবার তোমার দেখা পাবো
তাই এককোটি বছর এখানে দাঁড়ানো
এখানে অপেক্ষা ।

24/02/2026

নীরা তুমি
--- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরা, তুমি নিরন্নকে মুষ্টিভিক্ষা দিলে এইমাত্র
আমাকে দেবে না?
শ্মশানে ঘুমিয়ে থাকি, ছাই-ভস্ম খাই, গায়ে মাখি
নদী-সহবাসে কাটে দিন
এই নদী গৌতম বুদ্ধকে দেখেছিল
পরবর্তী বারুদের আস্তরণও গায়ে মেখেছিল
এই নদী তুমি!

বড় দেরি হয়ে গেল, আকাশে পোশাক হতে বেশি বাকি নেই
শতাব্দীর বাঁশবনে সাংঘাতিক ফুটেছে মুকুল
শোনোনি কি ঘোর দ্রিমি দ্রিমি?
জলের ভিতর থেকে সমুত্থিত জল কথা বলে
মরুভূমি মেরুভূমি পরস্পর ইশারায় ডাকে
শোনো, বুকের অলিন্দে গিয়ে শোনো
হে নিবিড় মায়াবিনী, ঝলমলে আঙুল তুলে দাও।
কাব্যে নয়, নদীর শরীরে নয়, নীরা
চশমা-খোলা মুখখানি বৃষ্টিজলে ধুয়ে
কাছাকাছি আনো
নীরা, তুমি নীরা হয়ে এসো!

24/02/2026

প্রতিমা
---- হেলাল হাফিজ

প্রেমের প্রতিমা তুমি, প্রণয়ের তীর্থ আমার।

বেদনার করুণ কৈশোর থেকে তোমাকে সাজাবো বলে
ভেঙেছি নিজেকে কী যে তুমূল উল্লাসে অবিরাম
তুমি তার কিছু কি দেখেছো?

একদিন এই পথে নির্লোভ ভ্রমণে
মৌলিক নির্মাণ চেয়ে কী ব্যাকুল স্থপতি ছিলাম,
কেন কালিমা না ছুঁয়ে তোমাকে ছুঁলাম
ওসবের কতটা জেনেছো?

শুনেছি সুখেই বেশ আছো। কিছু ভাঙচুর আর
তোলপাড় নিয়ে আজ আমিও সচ্ছ্বল, টলমল
অনেক কষ্টের দামে জীবন গিয়েছে জেনে
মূলতই ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল।

এ আমার মোহ বলো, খেলা বলো
অবৈধ মুদ্রার মতো অচল আকাঙ্ক্ষা কিংবা
যা খুশি তা বলো,
সে আমার সোনালি গৌরব
নারী, সে আমার অনুপম প্রেম।

তুমি জানো, পাড়া প্রতিবেশী জানে পাইনি তোমাকে,
অথচ রয়েছ তুমি এই কবি সন্ন্যাসীর ভোগে আর ত্যাগে।

Address

Sreepur
Magura

Telephone

01521105632

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কণ্ঠকানন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to কণ্ঠকানন:

Share