14/09/2026
ইলেকট্রিসিটির যে অবস্থা!
কষ্ট করে একটা পোস্ট লিখে আপডেট দিতে বসি—কারেন্ট চলে যায় 😃
ওভেনে কেক দিয়ে কাজ করছি—কারেন্ট চলে যায়।
কাউকে মেসেজের রিপ্লাই দিতে যাব—কারেন্ট চলে যায়, ওয়াই-ফাইও থাকে না! 🙂
সবচেয়ে মজার বিষয় কী জানেন?
বিদ্যুৎ থাকে না, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কমে না—বরং বাড়ে!
মোবাইলের বিল, ইন্টারনেটের বিল—সবকিছুর খরচও বাড়ছে। অথচ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট—দুটোর সমস্যাই সামলাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা করেন, তাদের জন্য বিষয়টা আরও কঠিন।
একদিকে ওভেনে কেক, অন্যদিকে কারেন্টের চিন্তা।
কেক বানানোর সময় কারেন্ট চলে গেলে শুধু সময় নয়, উপকরণ ও টাকারও ক্ষতি হতে পারে। 😔
আবার এমনও হয়—রাতে কাজ করতে বসেছি, ভাবলাম এখন কেকটা বানিয়ে ফেলি; ঠিক তখনই কারেন্ট চলে গেল। কখনো রাত ১২টার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। তখন কাজ করব কীভাবে?
তাহলে সমাধান কী হতে পারে?
আমার মনে হয়, শুধু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না—আমাদের বিকল্প শক্তির ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
🔸 ১. প্রতিটি বাসায় সোলার সিস্টেম ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে
সবার পক্ষে একসাথে সোলার প্যানেল বসানো সম্ভব নয়। তাই সরকার চাইলে ভর্তুকি, সহজ কিস্তি বা স্বল্পসুদের ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে।
🔸 ২. সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অফিসসহ বড় বড় ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা গেলে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
🔸 ৩. মার্কেট ও বড় বাণিজ্যিক ভবনেও সোলার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া উচিত
যেখানে সারাদিন প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, সেখানে সোলার ব্যবস্থা থাকলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
🔸 ৪. ইজিবাইক ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা করা যেতে পারে
চার্জিং স্টেশনগুলোতে সোলার ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো সম্ভব।
🔸 ৫. সাধারণ মানুষের জন্য সোলার প্যানেলের খরচ কমানো দরকার
সোলার প্যানেল বসাতে শুরুতেই অনেক টাকা লাগে। সরকার যদি ভর্তুকি দেয়, তাহলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারও ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থায় আসতে পারবে।
🔸 ৬. ইন্টারনেট ও মোবাইল ডাটার খরচ নিয়েও ভাবা দরকার
কারেন্ট না থাকলে ওয়াই-ফাই থাকে না, তখন আবার মোবাইল ডাটা কিনতে হয়। অর্থাৎ একই মানুষের ওপর দুই দিক থেকে খরচ পড়ে। ইন্টারনেট ও মোবাইল ডাটার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
🔸 ৭. সবচেয়ে জরুরি—লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া উচিত
বিদ্যুৎ অফিস যদি আগেই জানিয়ে দেয়—কোন এলাকায় কোন সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, তাহলে ছোট ব্যবসায়ীরা সেই অনুযায়ী নিজেদের কাজের সময় ঠিক করতে পারবেন।
আমি কেকের কাজ করি। একটা কেক ওভেনে দেওয়ার পর মাঝপথে যদি হঠাৎ কারেন্ট চলে যায়, তাহলে শুধু কাজ বন্ধ হয় না—কেকের ব্যাটার নষ্ট হয়, কাঁচামালের ক্ষতি হয়, অর্ডার সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয় না এবং সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়।
ধরুন, প্রতিদিন যদি জানা থাকে যে দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না—তাহলে আমরা ওই সময় ওভেনে কেক দেব না। ডেলিভারির সময়ও সেই অনুযায়ী ঠিক করতে পারব।
কিন্তু একদিন একসময়, আরেকদিন আরেকসময়—কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকলে আমরা ছোট ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করব?
আমরা ছোট ব্যবসায়ী। আমাদের প্রতিটি অর্ডারের পেছনে সময়, শ্রম, কাঁচামাল এবং টাকা জড়িত।
আর কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গিয়ে যদি কোনো ব্যবসায়ীর পণ্য বা কাঁচামাল নষ্ট হয়—সেই ক্ষতির দায় কে নেবে?
আমি বলছি না, প্রতিবার বিদ্যুৎ গেলেই সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে।
কিন্তু অন্তত এমন একটা পরিকল্পিত ও পূর্বঘোষিত ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ছোট ব্যবসায়ীরা নিজেদের কাজ সেই অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারেন।
কারণ আমাদের কাছে একটা নষ্ট কেকও শুধু একটা কেক নয়—এর পেছনে থাকে টাকা, সময়, পরিশ্রম আর একজন কাস্টমারের বিশ্বাস। ❤️ আমার তো এসব সমস্যার জন্য কদিন পোষ্টই দেওয়া হয়না। বিজনেস বন্ধ করে রেখেছি😐
ছোট ব্যবসাগুলোর কথাও সরকারের একটু ভাবা দরকার
Tarique Rahman স্যার।
আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে 🙂
ফারহানা ফেরদৌসী
Yummy Food
খুলনা