16/09/2024
প্রসঙ্গ লোকাল বেকারির ২৫০ টাকা পাউন্ড কেক VS হোমমেড ৮০০ টাকা পাউন্ড কেক!
এই ব্যাপারে রাতুল ভাইয়া দারুণ একটা পোস্ট করেছেন।আসুন সেইটা পরি......
কীভাবে লোকাল বেকারি ২৫০ টাকা পাউন্ডে কেক বিক্রি করে? আজকের লিখা টা ভালো করে পড়বেন ও বেশি শেয়ার করবেন! আরো সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন!
বেকারির হিসাব আমাদের চেয়ে অনেক আলাদা। আমরা যখন অর্ডার পাই তখন অল্প অল্প করে কেনা জিনিস দিয়ে কেক বানাই। তখন এমনিতেই আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কীভাবে? আসুন একটু বুঝিয়ে বলি। ধরুন আপনি আমি আমি ২ কেজি চিনি কিনলাম একসাথে। চিনির কেজি এখন ১৪০ টাকা। বেকারি কিন্তু ২-৩ কেজি চিনি কিনবে না। সাথে আপনি আমি যে A গ্রেডের চিনি কিনি তারা কিন্তু সেটাও কিনবে না। তারা একসাথে কয়েক বস্তা চিনি কিনবে! তাতে তাদের ১০-১৫ দিন হয়তো যাবে! এবার এদের প্রতি বস্তায় ৫০/১০০ কেজি চিনি থাকতে পারে! এখানে এদের প্রতি কেজি চিনির দাম পড়ে ৭০-৮০ টাকা! তাও আবার সবচেয়ে লওয়ার ক্লাসের চিনি। এবার বস্তা প্রতি কিনায় দাম আরো কিছুটা কমে যায়। অনুরুপ ময়দা ও অন্যান্য শুকনো উপকরন এর ক্ষেত্রে ঠিক একই কাহিনি হয়!
এবার আসি এদের কেকের ফ্রস্টিং নিয়ে! ফ্রস্টিং করতে অতি প্রাচীনকালে এরা ডালডার ব্যবহার করতো! এই ডালডা হয় গরুর চর্বি থেকে! এবার বুঝুন কি সস্তায় এরা এটার যোগান পায়? আর এখনকার বেকারি গুলো কিছুটা আধুনিক হয়েছে। এরা এখন ডালডার সাথে হুইপড ক্রিম মিশিয়ে ফস্টিং করে! এখানেও আছে ক্যালেংকারি। আর সেটা হলো এরা কোন ব্র্যান্ডের ই হুইপড ক্রিম ব্যবহার করে না। করে সম্পুর্ন ক্যামিকেল জাতীয় কিছু একটা দিয়ে! সেটার সাপ্লাই এরা অন্য যায়গা থেকে করে। যা আপনার আমার নাগালের বাইরে। যাতে এদের ক্রিম এত স্ট্যাবল হয় যে কড়া রোদেও তা গলে যায় না! ডিমের যোগান নিয়ে আর কিছুই বলবো না। এরা আপনার আমার মত বেছে বেছে ডিম কিনে না। এবং আলাদা আলাদা করে ফাটিয়েও দেখে না। গনহারে ভালো পচা সব মিলিয়েই বিটিং মেশিনে ঢেলে দেয়! আর ডিমগুলো ত ধুয়েও নেয় না! এখন আসি ফাইনালি এদের প্যাকিং নিয়ে। এরা বোর্ড বক্স এইসব নিজেরাই উৎপাদন করে খুবই কম খরচে। আর আপনি আমি কিনে আনি পিস হিসাবে অতি উচ্চ মুল্যে! এরপরে এদের কারখানায় থাকে অনেক মেশিন। যা দিয়ে এরা ক্রিম কোট করে,ফিনিশিং দেয়। আর ফুলগুলাও বানিয়ে ফেলে। তাছাড়া মেশিনেই এদের কাজের ৬০% হয়ে যায়। আপনার আমার মত এত সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে হাত পা ব্যথা করে কেক বানানো লাগে না।
তারপরে এদের অস্বাস্থ্যকর নোংড়া পরিবেশ ও বাজে কর্মকান্ডের কথাগুলো নাহয় বাদ ই দিয়ে দিলাম। কারন কমবেশি সবাই এগুলা দেখেছেন! এবারে আপনি ভাবছেন এতকিছু করে কীভাবে এরা ২০০-২৫০ টাকা পাউন্ডে সেল করে? এই দুনিয়ায় কেউ নিজের লস করে কিছুই বিক্রি করে না! হাহাহা! এদের এতকিছু করেও প্রতি পাউন্ডে খরচ হয় ৯০-১০০ টাকা! এখন ২৫০ টাকায় বিক্রি করলেও প্রফিট আসে ১৫০ টাকা! এবার প্রশ্ন হলো এরা কি দিনে ১-২ টা কেক বিক্রি করে? আজ্ঞে না! এরা প্রতিদিন ৭০০-৮০০ পাউন্ড কেক বিক্রি করে! এবার দেখেন এদের কেমন প্রফিট হয়?
এবারে আসি আমাদের হোমমেড প্রসঙ্গে। এখানে উপরের আলোচনায় সবকিছু একবারেই স্পষ্ট যে,আমাদের খুচরা জিনিস কেনার কারনে এমনিতেই খরচ বেশি পড়ে যায়। তাও আবার সবগুলো জিনিস ও ভালো মানের। এবারে সবচেয়ে কমদামি হুইপড ক্রিম ট্রপিক্যাল,ইন্সটা এগুলা দিয়া কেক বানালেও আমি আপনি সব বাদ দিয়েও মাত্র ১০০ টাকা প্রফিট রেখে ৫০০ টাকা পাউন্ডের নিচে বিক্রি করতে পারবেন না! এখন আপনি বলতে পারেন শুধু কি ক্রিম? না ক্রিম ছাড়া আপনি পাইপিং ব্যাগ,বোর্ড,বক্স এগুলা আলাদা করে নিতে হচ্ছে। এইসবেই আপনার আমার খরচ আরো বাড়তেছে। এরপরে আমার আপনার বিটার ও ওভেনের বিল কোথায়? পরিশ্রমের দাম টা কোথায়? এখন দিনের ৩-৪ ঘন্টা নষ্ট করে,খুব যত্ন সহকারে ভালো পরিবেশে কাজ করে ও ভালো মানের সব জিনিস দিয়ে আপনি মাত্র ১০০ টাকা প্রফিট ধরতে চাইবেন? এই প্রশ্ন টা আপনাদের কাছেই তোলা রইলো।
এবারে আমাদের কাস্টমারদের উদ্দেশ্যে বলছি,আপনারা যারা ২৫০ টাকা পাউন্ডের কেকের সাথে আমাদের ৮০০-৯০০ টাকা পাউন্ডের কেকের হিসাব করেন তারা একটু মিলিয়ে দেখবে।
তাহলে আর সস্তায় আর কেক কিনে খাওয়ার থেকে না কিনে খাওয়াটাই ভালো মনে করবেন।
(সংরক্ষিত)
১০০% কথা গুলো সঠিক। ভালো কিছু খেতে হলে অবশ্য ই দাম দিয়ে খেতে হয়। কম দামি জিনিস কম দাম। ভালো জিনিস এর ভালো দাম। আর আমরা সব সময় স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে কেক তৈরী করি। বেকারির কেক আমাদের হোম মেড কেক এর সাথে তুলনা হবে না।।