13/06/2026
যারা আমার মতো ছোট ব্যবসা করেন, তারা হয়তো এই কথাগুলোর সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
ছোট ব্যবসায় প্রতিটি খরচ হিসাব করে চলতে হয়। সব সময় মাথায় রাখতে হয় কোথায় ব্যয় কমানো যায়, কীভাবে কিছুটা লাভ ধরে রাখা যায়। আমার ব্যবসা যেহেতু হোমমেড কেকের, যদিও ফিজিক্যাল একটা স্টোর আছে।
তাই এখানে অনেক কিছুই আমাকে নিজে করতে হয়। বাজার করা থেকে শুরু করে কাঁচামাল সংগ্রহ, এমনকি অনেক সময় কেক ডেলিভারিও আমি নিজেই দিই।
আমাদের অনেক প্রোডাক্ট ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে, কখনো অন্য অঞ্চল থেকেও আসে। লোক দিয়ে আনানো যায়, কিন্তু তখন খরচ বেড়ে যায়। তাই অনেক সময় নিজেই রিকশায় কষ্ট করে, জায়গা না পেয়ে অস্বস্তিকরভাবে বসে, পণ্য নিয়ে ফিরে আসি। সেই কষ্টটা আসলে আমিই জানি।
কিন্তু বাইরে থেকে অনেকেই খুব সহজে বিচার করে ফেলেন—“এই ব্যবসায় তো অনেক লাভ”, “কেকের দাম এত কেন?”, “ডেলিভারি চার্জ এত কেন?”।
লাভ হয়, এটা অস্বীকার করব না। কিন্তু সেই লাভের পেছনে যে পরিশ্রম, সময়, দায়িত্ব আর মানসিক চাপ থাকে, সেটা সবাই দেখতে পায় না। এক হাতে এত কিছু সামলানো মোটেও সহজ নয়।
মজার বিষয় হলো, আমার কিছু কাস্টমার একসময় কেকের দাম আর ডেলিভারি চার্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। এখন তারাও কেক বানান, কেক বিক্রি করেন। আজ তারা বুঝতে পারেন এই কাজটা আসলে কতটা কঠিন।
আমার ব্যবসার শুরু ২০১৯ সালে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি নিজের পরিশ্রমেই এটাকে দাঁড় করিয়েছি। কারও কাছ থেকে এক টাকাও ধার নিইনি, কারও সাহায্যের ওপর নির্ভর করিনি। সাহায্য চাইওনি। নিজের চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
এক সময় গাজীপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করে চাকরি করেছি। আবার রাতে বাসায় ফিরে কেক বানিয়েছি। কারণ নিজের প্যাশনকে তো বন্ধ রাখা যায় না। পরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে শিখেছি, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তারপর একটি অফলাইন শপ দিয়েছি।
এই পুরো যাত্রায় কতটা সংগ্রাম করেছি, সেটা আসলে আমিই জানি। বাইরে থেকে শুধু ফলাফল দেখা যায়, কিন্তু সেই ফলাফলের পেছনের গল্পটা খুব কম মানুষই জানে।
আজ হঠাৎ মনে হলো একটু শেয়ার করি। আমি সাধারণত আমার সংগ্রামের কথা কাউকে বলি না। কিন্তু কখনো কখনো মনের কথাগুলো বললে মনটা একটু হালকা লাগে।
আর একটা অনুরোধ—কাউকে না জেনে, তার পথচলার গল্প না জেনে, তাকে বিচার করবেন না।