01/11/2023
Pen: Manira Sultana Papri.
আমাদের দেশের ছেলেরা বিয়ের পর তাদের ওয়াইফদের কে একটা আন রিয়েলিস্টিক প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয় রান্না ঘরে। তাদের স্ত্রীরা যতো ভালো রান্নাই করুক কখনোই তাদের মায়েদের রান্নার মতো স্বাদ হয় না। কারণ এই স্বাদটা আসলে রান্নায় বা তাদের জিহবায় না, এটা তাদের মগজে। যাইহোক সেটা মায়ের প্রতি ভালোবাসার একাউন্টে ফেলে দিলাম। বাঙালী ছেলেরা নারীদের সম্মান করুক বা না করুক মা'কে ভীষণ ভালোবাসে। আয়রনি।
ঠিক এই কারণেই নারীদের বলবো, সব দোষ অন্যের ঘাড়ে না চাপিয়ে কিছু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিন। কারণ আপনার ছেলে আর কাউকে সম্মান না করুক, আপনাকে তো করে বা করবে! তাই আপনিই আপনার পূত্র সন্তানকে শেখান কিভাবে নারীর সম্মান করতে হয়, ঘরে তাকে ঠিক সেরকম পরিবেশ দিন যে পরিবেশে আপনি সম্মানিত অনুভব করেন বা যে কোন নারী করবে। তাকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলুন। রান্নাবান্না, নিজের কাপড় ধোয়া,গোছানো, নিজের বেড গুছিয়ে রাখা, বেসিক পপরিস্কার পরিচ্ছন্নতা যেগুলো আপনি আপনার হাজব্যান্ডের কাছে আশা করেন সেগুলো আপনার পূত্র সন্তানকে শেখান। কারণ এই ছেলেটাই বড় হয়ে নিজের ফ্যামিলিতে আপনার শেখানো এবং দেখানো জীবন দর্শনকে নিজের ভেতর লালন করবে, চর্চা করবে। অফিস থেকে এসে হাত-পা ছড়িয়ে বসে রিমোট দিয়ে টিভি ছাড়তে ছাড়তে ওয়াইফকে পানি দিতে বলবে না। বাসায় ফ্রিজটা কোথায় আর পানির জগটা কোথায় সেটা সেও জানে এবং সেটা যে এক মাইল দূরে না সেটাও সে বোঝে।
এটা পরিবারে শেখানো শিক্ষা, বিশেষ করে মায়ের শেখানো শিক্ষাই কথা বলে, ছেলের গলায়,ছেলের আচরণে।
জানি,অনেক মায়ের সাথে এটা ঘটে। হাজব্যান্ড-ওয়াইফ দুজনেই কাজ করে ঘরে ফেরেন কিন্তু, ওয়াইফের সেকেন্ড শিফট শুরু হয় রান্না ঘরে আর হাজব্যান্ডের শুরু হয় রেস্ট।
নারী হিসেবে, মা হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে এটা যদি আপনার কাছে "বেঠিক" মনে হয় তবে নিজের জীবনে সেটা "ঠিক" যদি করতে না পারেন অন্তত আপনার ছেলে সন্তানের জীবনে সেটা "ঠিক" করে দিন। শাশুড়ির বেয়াড়া,অলস এবং ফাঁকিবাজ বুড়ো বাচ্চাকে শোধরানোর চেয়ে নিজের কাদামাটির মতো নরম বাচ্চাকে শেখানো সোজা। এই বাচ্চাটাই বড় হয়ে একটা পরিবার গড়বে, সেই পরিবারের নারীর জীবনটা অন্তত সহজ হবে। সেই পরিবারের বাচ্চারা অন্তত স্বাবলম্বী হবে, কারোর উপর নির্ভরশীল হবে না, কারোর জীবন কঠিন করে তুলবেনা। তাদের জীবনে আসা সব নারীদের পাশে থাকবে, সাপোর্ট দেবে, বোঝা হয়ে থাকবেনা বা দু পেয়ে অত্যাচার হয়ে কারোর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবেনা। Changes you wanna see in others,should start from you.