04/06/2026
এই কেকটার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে।
আমার কাজের প্রতি দায়িত্বের পরীক্ষা ছিল বলা চলে।
মোটামুটি ৪ কেজি ওজনের এই কেকটা আমি কিভাবে বানিয়েছি আর কিভাবে ঠিকঠাক ভাবে আপুর হাতে তুলে দিয়েছি,ওই সময়টার কথা ভাবলেও ভয় লাগে আমার।
কেক ডেলিভারি ডেট ছিল ২৫ এপ্রিল। আগের দিন ও বেশ কয়েকটা কেক ডেলিভারি ছিল। তার ভিতর আমার হাসবেন্ড এর বুকে ব্যাথা শুরু হয় সকাল থেকে। তখন ও বুঝিনি কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। দিন গড়িয়ে রাত হল। আমিও এই কেক এর যখন ক্রাম্ব কোট করছিলাম তখন তার বুকে ব্যাথা হঠাৎ আবার বেড়ে যায়। প্রচন্ড ব্যাথায় চোখের সামনে প্রিয় মানুষটা কুকড়ে যাচ্ছে। কি ভীষণ ভয়ের সে সময়। যে পার করে সেই অনুধাবন করতে পারবে।
কেক এর কাজ রেখে ছুটে গেলাম ঔষধ আনতে। এসে আবার কেক এর কাজ ধরলাম। কিন্তু ঔষধ দিয়েও ব্যাথা তার কমছেনা। আমিও আল্লাহ কে ডেকে যাচ্ছি। কিভাবে যেনো ওই অবস্থাতে ক্রাম্ব কোট করে ফেলেছি। তখন দেখি তার অবস্থা ভালোনা। কোনরকমে কেক পলির্যাপ করে ফ্রিজে রেখে ছুটে গেলাম হাসপাতাল। তখন রাত মোটামুটি ১১ টার বেশি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সির বাইরে আছি তখন। রাত ১২ টায় আপুকে জানালাম আমার অবস্থা। সাথে আরো ১২টা কাপকেক ও দেয়ার কথা ছিল। আমি বানাতে পারিনাই। সবটা আপুকে জানিয়ে শুধু দোয়া চেয়ে এইটুক আস্বস্ত করলাম ,যে করেই হোক আমি কাল আপনার কেকটা দিবই ইনশাআল্লাহ। আপুর ৮০-১০০ জন মানুষের আয়োজন আমার জন্য বিপদে পড়ুক তা আমি কিছুতেই চাচ্ছিলামনা। তখনও জানিনা হাসপাতালে কতক্ষণ থকতে হবে বা কি আছে সামনে।
রাত ২:৩০ এ ডাক্তার রা জানালো পরেরদিন এনজিওগ্রাম করতে হবে,তাই এডমিট করে দিলাম। আপুকে আপডেট দিলাম। একটু সময় ও চেয়ে নিলাম যেহেতু প্রোগ্রাম সন্ধ্যা বেলা।
পরেরদিন আল্লাহর নাম নিয়ে হাসপাতালে আমার বোনদের রেখে আমি ১২ টায় বাসায় আসি। ভাগ্য সহায় ছিল,বলে ওইদিন আমি মাত্র ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট এ কেক এর ডেকোরেশন এর কাজ শেষ করি আলহামদুলিল্লাহ। আগের রাতের ভয়,আর হাসবেন্ড এর টেনশন মাথায় নিয়ে কাজ করার সময় হাত কাপছিল ভীষণ। ফিনিশিং ও মনমত হয়নি। আপুর কাছে এটার জন্য মাফ চেয়ে নিচ্ছিলাম দেখে আপু উল্টো আমাকে সাহস দিচ্ছিলো আর বলছিল আমি এই মানসিক অবস্থা নিয়ে কেক দিতে পারছি তাই আপুর কাছে বড় ব্যাপার। আপু নিজে এসে কেক নিয়ে গিয়েছিল। স্মৃতি হিসাবে মনে করার জন্য এই একটা ছবিই তুলে রেখেছিলাম। ওইদিন আপু তার সব গেস্ট এর কাছে আমাদের জন্য দোয়া চায়। এই মানুষ গুলো আমার জীবনের বড় পাওয়া। চেনা অচেনা কত মানুষ যে দোয়া করেছে..! সবার দোয়ায় আল্লাহ বিপদ দিয়ে পরীক্ষা নিয়ে আবার বিপদ কাটিয়ে ও দিয়েছেন। সবার দোয়ায় হার্টের ১০০% ব্লক, ওই রাতের তীব্র ব্যাথা,তারপর স্টেন্ট বসানো...সব কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। সময় পার হয়েই যায়। কালকে আবার একটা শুক্রবার ,আর এখন শুক্রবার আসলেই আমার ২৪ তারিখের কথা মনে পড়ে ভয় লাগে।
সবাই আমাদের দোয়ায় রাখবেন। ভালো থাকুক সবার প্রিয় মানুষ গুলো। ❤️