13/05/2026
প্রথম সিজারের থেকে আমার দ্বিতীয় সিজারের অভিজ্ঞতা ছিল অনেক ভয়ঙ্কর 🙂 যা কিনা আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভুলতে পারবো না।
আমি যখন OT তে যাই, তখনও মনে হচ্ছিল আমি স্বাভাবিক, সুস্থ আছি। কিন্তু আমার সন্তানকে যখন বের করা হয়েছে — ঠিক সেই মুহূর্তে আমার হঠাৎ শরীর ঘামতে থাকে, চোখ বড় হয়ে যায়, শরীর খারাপ লাগতে থাকে। ওই সময়টা আমি সব ঝাপসা দেখতে থাকি
আমার মনে আছে নার্স এসে আমাকে জোরে ধরে হাতে হাত রেখে বলছিল, “কিছু হয়নি, আপনি ভালো আছেন, একটু শান্ত হন।” কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে ফিরে আসছি। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
জানি না কেন এমন হয়েছিল, তবে আমার প্রেসার অনেক লো হয়ে গিয়েছিল।
একটু পরই আমার সন্তানকে দেখানো হয়, আর ওকে দেখেই আমি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাই। সাথে সাথে বলি, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহুম্মা বারিক।”
আমার সেই দিনের কথাটা সারাজীবন মনে থাকবে।
এই যে এত ডিবেট চলে—সি-সেকশন না নরমাল, কোনটা বেশি ভয়ংকর…
Believe me, মা হওয়াটাই কষ্টের, মা হওয়াটাই ভয়ংকর রিস্কের।
যারা এসব নিয়ে ডিবেট করে তারা আসলে মূর্খ ছাড়া আর কিছু না।
সি-সেকশনে রিস্ক অনেক বেশি। একটু এদিক-সেদিক হলেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে। মায়েরা OT তে যাওয়ার সময় দোয়া-দরুদ পড়ে, কান্নাকাটি করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যায়—যদি আর ফিরে না আসে!
যদি মা বেঁচে থাকে কিন্তু সন্তান না থাকে, তখন সেই মা জীবন্ত লাশ হয়ে যায়। আর যদি সন্তান বেঁচে থাকে কিন্তু মা চলে যায়, তাহলে সেই সন্তানের পুরো জীবনটাই অন্ধকার হয়ে যায়।
আমিও এটাই ভাবতাম, যদি যেতেই হয় তাহলে আমরা দুজনই যেন যাই। আমার সন্তানকে আমি এই দুনিয়ায় কার কাছে রেখে যাব? এই চিন্তায় আমার ঘুম আসত না। আরো বেশি ভয় লাগত আমার প্রথম সন্তানকে কার ভরসায় রেখে যাব 💔
মায়ের এই অবদানকে ছোট করবেন না এই বলে—
“আল্লাহ নরমাল ডেলিভারি দিল না কেন?”
“সি-সেকশন করতে গেলে কেন?”
শুনেন, সি-সেকশনের যেমন কষ্ট আছে, তেমনি নরমাল ডেলিভারিতে অসহ্য ব্যথা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিতে হয়।
আর সি-সেকশনের পর উঠে দাঁড়ানো, হাঁটা, রিকভারি করা—এই কষ্টের কথা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। আর এক ফোঁটা পানি খাওয়ার জন্য কি পরিমানের ছটফট করছে সেটা শুধু একজন সিজারিয়ান মা ই জানে আবার অনেক মাকে সারাজীবন ব্যাক পেইন নিয়ে কষ্ট করতে হয়।
মাতৃত্ব কোনো প্রতিযোগিতা না—নরমাল না সি-সেকশন।
একজন মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে নিজের জীবন পর্যন্ত ঝুঁকিতে রাখেন। এটাই সবচেয়ে বড় কথা।
゚