19/01/2026
গণভোটের এজেন্ডাগুলা নিচে দিলাম বিস্তারিত! আপনাকে যদি কেউ "না" ভোট দেয়ার জন্য উৎসাহিত করে থাকে, তাদেরকে না বলুন। নিজের ও দেশের ভালো চাইলে "হ্যাঁ" ভোট ছাড়া উপায় নাই, যদি না আপনি নিজেও দুর্নীতি করেন।
'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫'-এ রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে ৮৪টি প্রস্তাবনা বা এজেন্ডা গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিচে বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তুলে ধরা হলো [1]:
রাষ্ট্রভাষা, নাগরিকত্ব ও সংবিধান
১. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে 'বাংলা' এবং অন্যান্য মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি প্রদান।
২. নাগরিকদের পরিচয় 'বাঙালি'র পরিবর্তে 'বাংলাদেশি' হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩. সংবিধান সংশোধনের জন্য দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং মৌলিক অনুচ্ছেদ (৮, ৪৮, ৫৬, ১৪২ ইত্যাদি) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করা।
৪. সংবিধানের ৭ক এবং ৭খ অনুচ্ছেদ (সংবিধান স্থগিতকরণ অপরাধ ও সংশোধনের অযোগ্য বিধান) বিলুপ্ত করা।
৫. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি (অনুচ্ছেদ ১৫০(২) এবং ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম তফসিল) বিলুপ্ত করা।
৬. জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান সংশোধন (প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং নাগরিকের জীবন ও বিচারের অধিকার খর্ব না করা)।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
৭. মূলনীতি হিসেবে 'সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি' উল্লেখ থাকা।
৮. বাংলাদেশকে বহু-জাতি, বহু-ধর্মী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
মৌলিক অধিকার
৯. মৌলিক অধিকারের তালিকা সম্প্রসারণ এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রপতি
১০. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তন (উভয় কক্ষের ভোটে নির্বাচিত) এবং প্রার্থীর দলীয় পদ ত্যাগের বাধ্যবাধকতা।
১১. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ছাড়াই সাংবিধানিক ও আইনি পদে নিয়োগের ক্ষমতা)।
১২. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া সংশোধন (দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে)।
১৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সীমিতকরণ (ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি সাপেক্ষে)।
প্রধানমন্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার
১৪. প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা।
১৫. প্রধানমন্ত্রী একই সাথে দলের প্রধান থাকতে পারবেন না।
১৬. নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃপ্রবর্তন এবং এর প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
স্থানীয় সরকার
১৭. নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান।
১৮. স্থানীয় সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
১৯. স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জনপ্রতিনিধিদের অধীনে ন্যস্ত করা।
২০. স্থানীয় সরকারের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা প্রদান।
আইনসভা (জাতীয় সংসদ)
২১. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) গঠন। উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন।
২২. উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ (আইন পর্যালোচনা, কিন্তু অর্থবিল ও আস্থা ভোটে ক্ষমতা নেই)।
২৩. উচ্চকক্ষের সদস্যদের যোগ্যতা নিম্নকক্ষের অনুরূপ হবে।
২৪. সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা।
২৫. ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান।
২৬. পাবলিক একাউন্টস কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে নির্বাচন।
২৭. সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও কমিটির ক্ষমতা নির্ধারণে আইন প্রণয়ন।
২৮. অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন (শুধুমাত্র অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা)।
২৯. জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে অনুমোদনের (Ratify) বিধান।
বিচার বিভাগ
৩০. আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিধান।
৩১. আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি।
৩২. স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন (JAC) গঠন।
৩৩. বিচারক নিয়োগ কমিশন সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩৪. বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও আলাদা সচিবালয় প্রদান।
৩৫. হাইকোর্টের বেঞ্চ বিকেন্দ্রীকরণ (বিভাগীয় পর্যায়ে স্থায়ী বেঞ্চ)।
৩৬. উপজেলা পর্যায়ে আদালতের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
৩৭. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল ও শক্তিশালীকরণ।
৩৮. বিচারকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন ও প্রকাশ।
৩৯. সাবেক বিচারপতিদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন।
৪০. অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা (অনুচ্ছেদ ১১৬ সংশোধন)।
৪১. সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা।
৪২. স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠন।
৪৩. স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস প্রতিষ্ঠা।
৪৪. বিচার বিভাগে জনবল বৃদ্ধি।
৪৫. জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর।
৪৬. বিচারক ও কর্মচারীদের সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ।
৪৭. আদালত ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন।
৪৮. আইনগত সহায়তা আইন সংশোধন ও মধ্যস্থতা (Mediation) জোরদার।
৪৯. আইনজীবীদের আচরণবিধি যুগোপযোগীকরণ ও আদালত প্রাঙ্গণে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ।
৫০. বার কাউন্সিল নির্বাচনে দলীয় প্যানেল নিষিদ্ধকরণ।
৫১. বিচারকদের রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা।
নির্বাচন ব্যবস্থা
৫২. নির্বাচন কমিশন নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ।
৫৩. নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণে স্বাধীন ও বিশেষায়িত কমিটি গঠন।
৫৪. স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ইসির কাছে ন্যস্ত রাখা।
সাংবিধানিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ
৫৫. ন্যায়পাল (Ombudsman) নিয়োগ ও কার্যকর করা।
৫৬. সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) নিয়োগে সার্চ কমিটি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
৫৭. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG) নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন।
৫৮. দুর্নীতি দমন কমিশনকে (ACC) সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান এবং নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি গঠন।
জনপ্রশাসন
৫৯. জুলাই গণহত্যা ও ভোট জালিয়াতিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারে স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
৬০. স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন।
৬১. তিনটি পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন (সাধারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য)।
৬২. হিসাব বিভাগ থেকে নিরীক্ষা বিভাগ আলাদাকরণ।
৬৩. তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন।
৬৪. অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩ সংশোধন।
৬৫. কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে নতুন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন।
পুলিশ প্রশাসন
৬৬. স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন।
দুর্নীতি দমন
৬৭. সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে অনুচ্ছেদ ২০(২) সংশোধন।
৬৮. জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলপত্র প্রণয়ন।
৬৯. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ (ইনডেমনিটি) চিরতরে বন্ধ করা।
৭০. 'বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ' বা সুবিধাভোগী মালিকানা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন।
৭১. অর্থ পাচার রোধে কঠোর আইন ও রেজিস্টার সংরক্ষণ।
৭২. নির্বাচনী অর্থায়নে স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ।
৭৩. সরকারি সেবাখাত ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অটোমেশন।
৭৪. বেসরকারি খাতের দুর্নীতিকে শাস্তির আওতায় আনা।
৭৫. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (CRS) বাস্তবায়ন।
৭৬. দুদক কমিশনারের সংখ্যা ৩ থেকে ৫-এ উন্নীত করা।
৭৭. দুদক কমিশনার নিয়োগের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নির্দিষ্ট করা।
৭৮. দুদক কমিশনারদের মেয়াদ ৫ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর করা।
৭৯. দুদক বাছাই কমিটির নাম পরিবর্তন করে 'বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি' করা।
৮০. দুদক বাছাই কমিটিতে ৭ জন সদস্য রাখা (যার প্রধান হবেন আপিল বিভাগের বিচারপতি)।
৮১. (দলিলের ক্রমিক ৮০ এর পুনরাবৃত্তি) কমিশনার নিয়োগে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসরণ।
৮২. (দলিলের ক্রমিক ৮১) দুদকের কার্যক্রম পর্যালোচনার ক্ষমতা বাছাই কমিটিকে প্রদান।
৮৩. (দলিলের ক্রমিক ৮২) দুদক আইন ২০০৪-এর ৩২ক ধারা (সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে পূর্বানুমতি) বিলোপ।
৮৪. (দলিলের ক্রমিক ৮৩) আয়কর আইনের ৩০৯ ধারা সংশোধন (দুদকের তথ্য প্রাপ্তি সহজ করা)।
৮৫. (দলিলের ক্রমিক ৮৪) বাংলাদেশকে 'ওপেন গভার্নমেন্ট পার্টনারশিপ' (OGP)-এর সদস্য করা।
(দ্রষ্টব্য: মূল দলিলে ক্রমিক নম্বর ৮০ দুইবার থাকায় মোট ৮৪টি এজেন্ডার তালিকা থাকলেও ক্রমিক ৮৪ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।)