22/07/2025
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ আমার বাসার পাশেই। এখান থেকেই আমার ছেলে ইন্টার পাশ করেছে। সারেজমিনে যেয়ে যা দেখলাম, যা বুঝলাম:
১. এটা শ্রেফ একটা দূর্ঘটনা। এখানে বিমান বাহিনী কিংবা স্কুল কতৃপক্ষের কোন দোষ নাই। তবে ঢাকার মত একটা জনবহুল রাজধানীতে কেন বিমান চালানো প্রশিক্ষণ নিতে হবে, সে ব্যাপারে কতৃপক্ষের সুস্পষ্ট জবাব দিতে হবে। এবং স্কুলটি যদি সত্যিই বিমান উড্ডয়নের পথে হয়ে থাকে তবে ভবনটি অতি দ্রুত ভেঙ্গে দিতে হবে।
২. উৎসুক জনতার ভিড়ে চিকিৎসা সেবা এবং পরিবহন ব্যাবস্থা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে সাহায্যেও এগিয়ে এসেছে প্রচুর মানুষ। রক্ত দেওয়ার জন্যও অনেকে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে ছিল।
৩. ঘটনা ঘটার খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর রেসকিউ টিম সহ প্রশাসনের সব বিভাগ একযোগে উদ্ধার কাজে ঝাপিয়ে পড়ে। সবার আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত।
৪. ৫০ টাকার রিক্সা ভাড়া ২০০ টাকা কিংবা ২০ টাকার পানি ৪০০ টাকা বলে যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে তা মিথ্যা। দু-এক জন এমন করলেও করতে পারে, তবে বেশিরভাগ রিক্সা এবং ভ্যান চালক বিনা পয়সায় আহত নিহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। আশেপাশের অনেক দোকান এবং প্রতিষ্ঠান ট্রাকে করে ভ্যানে করে প্রচুর পানির বোতল পৌঁছে দিয়েছে।
৫. পুরো ঘটনার বিশালতা এতই ব্যাপক যে স্কুল কতৃপক্ষ, অভিভাবক এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিরা শুরুতে কি করতে হবে সেটা বুঝে উঠতেই কিছুটা সময় লেগে যায়। যার জন্য শুরুতে কিছুটা এলোমেলো হলেও পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
৬. মৃতের সংখ্যা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংখ্যা গোপন করার কোন চেষ্টা করা হচ্ছে না। এটা দূর্ঘটনা, কোন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড না। দূর্ঘটনার পরপরই যে যেভাবে পারে আহতদের আশেপাশের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে যাদের অবস্থা সিরিয়াস তাদের ঢাকা মেডিকেল এবং এর পাশেই অবস্থিত বার্ণ ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করায় প্রাথমিকভাবে তাদের নাম ঠিকানা যোগাড় করা সম্ভব হয়ে উঠেনি, এছাড়া পরিচয় পত্র পুড়ে যাওয়ায়ও শুরুতে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। আজ দুপুরের মধ্যে এটার সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
৭. এই ঘটনার সাথে ডা. সামন্ত লাল কে টেনে আনা অপ্রাসঙ্গিক। বার্ণ ইন্সটিটিউট একটা বিশেষায়িত হাসপাতাল। আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য এশিয়ার সবচেয়ে ওয়েল ইকুইপ্টড হাসপাতাল। তবে সামন্ত লালের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলে সেটা নেওয়া যেতে পারে।
৮. আজ সকালে দেখলাম স্কুলের সামনে কিছু ছাত্র এবং কিছু জনসাধারণ লাশ গোপন নিয়ে নানা ধরনের উত্তেজক শ্লোগান দিচ্ছে। তাতে মনে হচ্ছে অচিরেই এটি রাজনৈতিক দিকে ধাবিত হচ্ছে। সুযোগ সন্ধানীদের লাশ নিয়ে রাজনীতি এদেশে নতুন নয়। এটাকে রুখতে হবে।
৯. যেহেতু এই দূর্ঘটনার সাথে বিমান বাহিনী সরাসরি জড়িত, তাই আশা করা যায়, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। এবং সেটাই উত্তরাবাসীর চাওয়া।
১০. উত্তরার জামাত এবং বিএনপির অনেক নেতা কর্মীকে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে উদ্ধার কাজে সহয়াতা এবং হাসপাতাল গুলোতে রক্ত দেওয়ার কাজে সহায়তা করতে দেখেছি।
১১. কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশংকাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। আর যারা বেচে আছে, তাদের সারাজীবন এর ভার বইতে হবে।
১২. আগুনে পোড়া বাচ্চাদের দেখলে কোন মানুষের পক্ষেই স্বাভাবিক থাকা সম্ভব না। খালি কল্পনা করুন আপনার একটা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পুড়ে গেছে, যা সমস্ত শরীরের আধা পারসেন্টও না। অথচ ওদের অনেকের শরীর ৭০ ভাগেরও বেশি পুড়ে গেছে। ওদের কষ্ট আপনার কল্পনার চেয়েও ভয়ংকর।
©