31/12/2025
বিশর বিন হারিস তখনো আল্লাহর পথে আসেননি, তিনি ছিলেন বাগদাদের এক ধনী এবং মদ্যপ ব্যক্তি। একদিন তিনি মাতাল অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ তার নজর পড়ল রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপে একটি কাগজের টুকরোর ওপর। তিনি দেখলেন, ওই কাগজে লেখা আছে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"।
মাতাল হলেও তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক অদ্ভুত শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠল। তিনি ভাবলেন, "হায়! আমার রবের নাম ময়লার স্তূপে পড়ে আছে?" তিনি কাগজটি তুলে নিলেন, খুব যত্ন করে পরিষ্কার করলেন এবং বাজার থেকে দামী আতর কিনে তাতে সুগন্ধি লাগালেন। এরপর তিনি সেই কাগজটি অত্যন্ত সম্মানের সাথে উঁচূ ও পবিত্র জায়গায় রেখে দিলেন।
তিনি বলেছিলেন, "হে আরশের মালিক! এই ময়লার জায়গা তো বিশরের মতো পাপীর, আপনার পবিত্র নামের জন্য নয়।"
সেদিন রাতে বাগদাদের এক বুযুর্গ স্বপ্নে দেখলেন, আল্লাহ তাকে বলছেন,
"যাও, বিশরকে গিয়ে বলো, তুমি আমার নামকে সুগন্ধি লাগিয়েছ, সম্মান করেছ এবং পবিত্র জায়গায় রেখেছ। আমি কসম করে বলছি, আমি তোমার নামকে দুনিয়া ও আখেরাতে এমন সুগন্ধিময় ও সম্মানিত করব যে, কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ তোমাকে সম্মানের সাথে স্মরণ করবে।"
বুযুর্গ ভাবলেন, "বিশর তো এক মাতাল, তাকে এই বার্তা দেব?" তিনি তিনবার একই স্বপ্ন দেখলেন। অবশেষে তিনি বিশরের কাছে গেলেন।
তিনি যখন বিশরের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লেন, তখন বিশর মদের আসরে ছিলেন। তিনি খালি পায়ে দরজা খুললেন। বুযুর্গ তাকে আল্লাহর সালাম ও বার্তাটি পৌঁছে দিলেন।
এ কথা শুনে বিশর কেঁদে ফেললেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, "আমার রব আমাকে ডেকেছেন! আমার বন্ধু আমাকে সালাম পাঠিয়েছেন!"
সে সময় তিনি খালি পায়ে ছিলেন। আল্লাহর ভয়ে এবং প্রেমে তিনি আর জুতা পরেননি। তিনি তার সব মদের পাত্র ভেঙে ফেললেন এবং তওবা করলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, "যে অবস্থায় (খালি পায়ে) আল্লাহর বার্তা এসেছে, সেই পায়ে আমি আর জুতা পরব না।" তাই তাকে 'হাফি' (খালি পা ওয়ালা) বলা হতো।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) বলতেন: "আমরা তো আল্লাহকে জানি, কিন্তু বিশর হাফি রহ. আল্লাহকে জানেন ও চেনেন।"
আল্লাহর নাম বা ধর্মীয় কোনো নিদর্শনের প্রতি সামান্য সম্মানও মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং তাকে আল্লাহর ওলিতে পরিণত করতে পারে।
© Salman Farsi
(সূত্র: আত তাউওয়াবিন, তাবাকাতে সুফিয়া, কাশফুল মাহজুব)