17/06/2026
#অন্ধকার-বাংলোর-রহস্য
পর্ব ১: রহস্যময় চিঠি
বর্ষার এক সন্ধ্যা।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানিতে পুরো শহর আলোকিত হয়ে উঠছে। ঢাকার বিখ্যাত তরুণ গোয়েন্দা আরিয়ান তার অফিসে বসে আগের একটি মামলার নথি ঘাঁটছিল।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
একজন ডাকপিয়ন ভেতরে ঢুকে একটি পুরনো খাম তার হাতে দিল।
— "আপনার নামে এসেছে।"
আরিয়ান খামটি হাতে নিয়ে অবাক হলো। খামটি খুব পুরনো ধরনের। উপরে কোনো প্রেরকের নাম নেই।
খাম খুলে ভেতরের চিঠিটি বের করল সে।
চিঠিতে কাঁপা হাতে লেখা—
"গোয়েন্দা আরিয়ান,
আমি খুব বড় বিপদে আছি। আমার চারপাশে এমন কিছু ঘটছে যা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারছি না। সবাই আমাকে পাগল ভাবছে। কিন্তু আমি জানি কেউ একজন আমাকে অনুসরণ করছে।
দয়া করে যত দ্রুত সম্ভব চলে আসুন। যদি তিন দিনের মধ্যে না আসেন, হয়তো আমাকে আর জীবিত পাবেন না।
— মেহেরুন নাহার"
নিচে একটি গ্রামের ঠিকানা।
চিঠিটি পড়ে আরিয়ানের মনে কৌতূহল জাগল। সাধারণত মানুষ সরাসরি ফোন করে সাহায্য চায়। কিন্তু এই নারী কেন চিঠি পাঠিয়েছেন?
চিঠির তারিখ দেখে সে আরও অবাক হলো।
চিঠিটি পাঁচ দিন আগে লেখা।
অর্থাৎ ইতিমধ্যে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।
সেই রাতেই আরিয়ান যাত্রার প্রস্তুতি নিল।
পরদিন সকালে সে রওনা হলো উত্তরবঙ্গের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের উদ্দেশ্যে।
চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে সে পৌঁছাল গ্রামটিতে।
গ্রামের প্রবেশমুখে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে সে বাংলোর খোঁজ জানতে চাইল।
দোকানদার তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকাল।
— "আপনি কি ওই অভিশপ্ত বাংলোর কথা বলছেন?"
— "অভিশপ্ত?"
— "হ্যাঁ। রাত হলে ওখানে কেউ যায় না।"
— "কেন?"
— "মানুষ বলে সেখানে মৃত মানুষের ছায়া দেখা যায়।"
আরিয়ান হালকা হেসে বলল—
— "আমি ভূতে বিশ্বাস করি না।"
দোকানদার উত্তর দিল—
— "আমরাও করতাম না। কিন্তু গত এক বছরে যারা ওখানে রাত কাটিয়েছে, তারা সবাই ভয়ে পালিয়েছে।"
কথাগুলো শুনে আরিয়ানের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল।
বিকেলের দিকে সে বাংলোর সামনে এসে দাঁড়াল।
বিশাল দোতলা বাড়ি।
চারপাশে বড় বড় গাছ।
বাড়িটা দেখে মনে হয় বহু বছরের পুরনো।
জানালার কিছু কাচ ভাঙা।
দেয়ালের রং উঠে গেছে।
কিন্তু বাড়িটির মধ্যে একটা অদ্ভুত ভয়ংকর নীরবতা আছে।
হঠাৎ পিছন থেকে একজন বৃদ্ধের কণ্ঠ ভেসে এলো—
— "আপনি কি গোয়েন্দা আরিয়ান?"
আরিয়ান ঘুরে দাঁড়াল।
সাদা দাড়িওয়ালা একজন বৃদ্ধ।
— "জি।"
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— "আপনি দেরি করে ফেলেছেন।"
— "মানে?"
— "মেহেরুন নাহার তিন দিন আগে নিখোঁজ হয়েছেন।"
আরিয়ানের বুকের ভেতর কেমন যেন ধাক্কা লাগল।
— "নিখোঁজ?"
— "হ্যাঁ। নিজের ঘর থেকে।"
— "কেউ কিছু দেখেনি?"
— "না।"
— "পুলিশ?"
— "তদন্ত করেছে। কিন্তু কোনো সূত্র পায়নি।"
আরিয়ান বাংলোর দিকে তাকাল।
বাতাসে গাছের ডাল নড়ছে।
মনে হলো যেন বাড়িটা তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তার অভিজ্ঞতা বলছে—
এই বাড়ির ভেতরে এমন একটি রহস্য লুকিয়ে আছে, যা সাধারণ কোনো নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়।
সে তখনও জানত না, এই তদন্ত তার জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক মামলায় পরিণত হতে যাচ্ছে...
চলবে...
(পর্ব ২-এ: বন্ধ ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ, ভাঙা ফুলদানি এবং অসম্ভব এক রহস্যের শুরু।)