27/08/2017
নবম ও দশম শ্রেণির পড়াশোনা (বাংলা দ্বিতীয় পত্র)
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ তোমাদের জন্য বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে পদ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নাম বিশেষণ
নাম বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন :
ক) রূপবাচক : নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ
খ) গুণবাচক : চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠা-া হাওয়া
গ) অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা
ঘ) সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা
ঙ) ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা
চ) পরিমাণবাচক : বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনি জাহাজ, এক কেজি চাল, দুই কিলোমিটার রাস্তা
ছ) অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ
জ) উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি
ঝ) প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ) নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, সেই ছেলে, ছাবি্বশে মার্চ
ভাব বিশেষণ
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনামভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ। ভাব বিশেষণ চার প্রকার। যেমন :
১. ক্রিয়া বিশেষণ : যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন :
ক) ক্রিয়া সংঘটনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ) ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।
২. বিশেষণীয় বিশেষণ : যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন :
ক) নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ : রকেট অতি দ্রুত চলে।
৩. অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন : ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
৪. বাক্যের বিশেষণ : কখনো কখনো কোনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়। যেমন : দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠন করা যায়।
যেমন :
ক) ক্রিয়াজাত : হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন
খ) অব্যয়জাত : আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ) সর্বনাম জাত : কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি
ঘ) সমাসসিদ্ধ : বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা চৌচালা ঘর
ঙ) বীপ্সামূলক : হাসিহাসি মুখ, কাঁদো কাঁদো চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা
চ) অনুকার অব্যয়জাত : কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে
ছ) কৃদন্ত : কৃতী সন্তান, জানাশোনা লোক, পায়েচলা পথ, হৃত সম্পত্তি, অতীত কাল
জ) তদ্ধিতান্ত : জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ
ঝ) উপসর্গযুক্ত : নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে
ঞ) বিদেশি : নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পত্তি, দরপত্তনি তালুক
বিশেষণের অতিশায়নের সংজ্ঞা ও প্রকরণ
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন : যমুনা একটি দীর্ঘ নদী, পদ্মা দীর্ঘতর কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। সূর্য, পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম, পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর এবং চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর। বিশেষণের অতিশায়ন দুই প্রকার। যেমন : বাংলা শব্দের অতিশায়ন ও তৎসম শব্দের অতিশায়ন
বাংলা শব্দের অতিশায়ন
১. দুয়ের মধ্যে অতিশায়নে : বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে চাইতে, চেয়ে, হইতে, হতে, অপেক্ষা, থেকে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে দুয়ের মধ্যে তারতম্য বোঝাতে প্রথম বিশেষ্যটি প্রায়ই ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত হয়ে থাকে এবং মূল বিশেষণের পর কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় না। যেমন : গরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি। বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।
২. বহুর মধ্যে অতিশায়ন : অনেকের মধ্যে একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝাতে মূল বিশেষণের কোনো পরিবর্তন হয় না। মূল বিশেষণের আগে সবচাইতে, সবচেয়ে, সব থেকে, সর্বাপেক্ষা, সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার হয়। যেমন : নবম শ্রেণির ছাত্রদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান। ভাইদের মধ্যে বিমলই সবচাইতে বিচক্ষণ। পশুর মধ্যে সিংহ সর্বাপেক্ষা বলবান।
CTH
Opposite to M.E.S College, Khulshi, Chittagong.
Contact No: 01882697940