18/03/2025
যদি কেউ কাউকে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করে, উৎসাহিত করে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাধা প্রদান না করে, তবে অবশ্যই সে তার গুনাহে অংশীদার হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭)। পাপের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনভাবেই সাহায্য করা যাবে না। পাপ কাজে সহযোগিতা করা হারাম।পাপকাজে প্ররোচনাকারী ব্যক্তি ডবল পাপের ভাগীদার হবে।
আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা সৎকাজের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হল সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান - ৩:১০৪)
কিছু লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল? ধনী ব্যক্তিরাই সমস্ত নেকীগুলো লুটে নিল! ওরা নামায পড়ে, যেমন আমরা পড়ি। ওরা রোযাও রাখে, যেমন আমরা রাখি। উপরন্তু ওরা ওদের উদ্বৃত্ত অর্থাদি সদকাহ করে থাকে।’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহ কি তোমাদেরকে এমন কিছু প্রদান করেননি যদ্দবারা তোমরাও সদকাহ (দান) কর? (শোন!) প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) হল সদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার বলা) হল সদকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ বলা) হল সদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) হল সদকাহ, সৎকাজে (মানুষকে) আদেশ (ও উদ্বুদ্ধ) করা হল সদকাহ এবং মন্দকাজে (তাদেরকে) বাধা দেওয়াও হল সদকাহস্বরূপ।’’
মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক আদম সন্তানকে ৩৬০টি গ্রন্থির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (প্রত্যহ এর প্রত্যেকটির পক্ষ থেকে রয়েছে প্রদেয় সদকাহ।) সুতরাং যে ব্যক্তি ৩৬৫ সংখ্যক ‘আল্লাহু আকবার’ বলে বা ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে বা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলে বা ‘সুবহা-নাল্লাহ’ বলে বা ‘আস্তাগফিরুল্লা-হ’ বলে বা মানুষের পথ থেকে পাথর সরিয়ে দেয় বা কাঁটা অথবা হাড় সরিয়ে দেয় বা সৎকর্মে আদেশ দেয় বা মন্দ কর্মে বাধা প্রদান করে, সে ব্যক্তি (সে দিনের জন্য) দোযখ থেকে নিজেকে সুদূরে করে নেয়।
মন্দকাজে বাধা দেওয়ার যে বড় মাহাত্ম্য রয়েছে, তার বর্ণনা দিয়ে রসূল (ﷺ) বলেন, ‘‘অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায় রয়েছে, যাদেরকে পূর্বের (সাহাবার) মত সওয়াব দান করা হবে। তারা মন্দকাজে বাধাদান করবে।’’
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা না দেওয়া এবং এ ব্যাপারে তোষামোদ করা মোটেই উচিত নয়। যেহেতু যারা সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা দান করা হতে বিরত থাকে তারা অভিশপ্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ -كَانُواْ لاَ يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُواْيَفْعَلُونَ
অর্থাৎ, বনী-ইস্রাঈলের মধ্যে যারা (কুফর) অবিশ্বাস করেছিল তারা দাঊদ ও মরিয়ম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যে সব গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।
প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সাধ্যমত সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা দান করার দায়িত্ব পালন করা। তা না পারলে জানতে হবে তার ঈমানে দুর্বলতা আছে।
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোন গর্হিত (বা শরীয়ত বিরোধী) কাজ দেখবে, তখন সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তিত করে। তাতে সক্ষম না হলে যেন তার জিহ্বা দ্বারা, আর তাতেও সক্ষম না হলে তার হৃদয় দ্বারা (তা ঘৃণা জানবে)। তবে এ হল সব চাইতে দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক।’’