21/02/2026
আমি সবসময় বলি, আল্লাহ যদি পেটটা না দিতো কিংবা গায়েবি খাবারের ব্যবস্থা করতো তাহলে দুনিয়ায় রিজিক নিয়ে এতো কামড়াকামড়ি, মারামারি, দুশ্চিন্তা এসব কিছুই হতো না। মানুষ একটু শান্তিতে বাঁচতো, পাপও কম হতো। ইতিহাস ঘেঁটে দেখি, আল্লাহ মানুষের শান্তিই চেয়েছিল কিন্তু আমরা মানুষেরাই অশান্তির পথ বেছে নিয়েছি।
কুরআনে বনী ইসরাঈল জাতির জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নেয়ামত হিসেবে 'মান্না ও সালওয়া' নামক দুটো খাবারের কথা বলা আছে।
"মান্না" এক ধরণের কুদরতি খাদ্য যা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমান থেকে অবতীর্ণ হতো। এটি ছিল বরফের মতো সাদা এবং মধুর মতো মিষ্টি।
'সালওয়া' ছিল এক প্রকার সুস্বাদু পাখি। যা অনেকটা কোয়েল পাখির মতো।
হযরত মুসা (আ.) যখন বনী ইসরাঈলদের নিয়ে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত হলেন, তখন আল্লাহ তাদের পবিত্র ভূমি অর্থাৎ ফিলিস্তিনে প্রবেশের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেখানে শক্তিশালী 'জাব্বারিন' জাতি শাসন করছিল। বনী ইসরাঈলরা ভীরুতা প্রদর্শন করে মুসা (আ.)-কে বলে বসে: "তুমি আর তোমার রব গিয়ে লড়াই করো, আমরা এখানেই বসে থাকব।"
তাদের এই অবাধ্যতা ও ধৃষ্টতার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তাদের জন্য ফিলিস্তিনে প্রবেশ ৪০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে দেন। এই দীর্ঘ সময় তারা সিনাই মরুভূমির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। এই অঞ্চলটিকেই বলা হয় 'তিহ' ময়দান। সেখানে কোনো গাছপালা, ঘরবাড়ি বা খাবারের উৎস ছিল না। সেই প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্যই আল্লাহ তিনটি অলৌকিক ব্যবস্থা করেছিলেন:
১. মান্না ও সালওয়া: যা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করত।
২. পাথরের ঝর্ণা: মুসা (আ.) লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করলে ১২টি গোত্রের জন্য ১২টি পানির ঝর্ণা বের হতো।
৩. মেঘের ছায়া: মরুভূমির তীব্র রোদে আল্লাহ মেঘ দিয়ে তাদের ওপর বিশাল ছাতার মতো ছায়া তৈরি করে দিতেন।
প্রতিদিন ভোরে জমিতে মান্না পড়ে থাকত। আর দক্ষিণ দিক থেকে এক প্রকার বায়ু প্রবাহিত হতো যা সালওয়া পাখিদের বনী ইসরাঈলদের শিবিরের কাছে নিয়ে আসত এবং তারা সহজেই এগুলো ধরে জবাই করে খেতে পারত।
মান্না ও সালওয়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল—কেউ যেন পরের দিনের জন্য খাবার জমা না রাখে। আল্লাহ চেয়েছিলেন তারা যেন প্রতিদিন আল্লাহর রিজিকের ওপর ভরসা করে। কিন্তু তারা লোভের বশবর্তী হয়ে খাবার লুকিয়ে রাখতে শুরু করে। তাদের এই অবিশ্বাসের কারণে খাবারে পচন ধরে। নবীজি (সা.) বলেছেন, "যদি বনী ইসরাঈলরা অবাধ্যতা না করত, তবে আজ গোশতে পচন ধরত না।" সহজ ভাষায়, অতি লোভে তাতী নষ্ট।
তারা শুধু এ করেই ক্ষান্ত হয়নি। প্রতিদিন এই জান্নাতি মানের সুস্বাদু খাবার পেয়েও তারা মুসা (আ.)-কে বলে যে, তাদের এ খাবার দিয়ে পোষাচ্ছে না, তাদের ভূমিজাত দ্রব্য তরিতরকারি, ডাল, ভুট্টা, রসুন ও পেঁয়াজ দরকার। সুখে থাকলে ভূতে কিলাইলে যা হয় আর কি!
তাদের এই লোভ আর অকৃতজ্ঞতার শাস্তি স্বরুপ দুনিয়ায় লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য শুরু।
তথ্যসূত্র: কুরআন (সূরা বাকারাহ: ৫৭, ৬০, ৬১; সূরা আরাফ: ১৬০)
আমি শুধু ভাবতেছি, শয়তানে কি পরিমাণ লাড়াচাড়া দিলে আরামের রেডি করা খাবার রেখে সবজি চাষাবাদের কথা মাথায় আসে। ব্যাপারটা অনেকটা এমন, পাতিল ভরা রোস্ট, পোলাও, রেজালা, আর আমি খেতে চাই ঝাল ঝাল ভর্তা। মনে রাখবেন, রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমরা যদি ধৈর্য ধরি এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখি, তবে তিনি এমন উৎস থেকে আমাদের রিযিক দেবেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
Romana Akter - শুদ্ধবালিকা