16/08/2026
টক্সিক শ্বশুরবাড়িতে সীমা টানবেন কীভাবে?
শ্বশুরবাড়িতে সবকিছু নিজের মতো করা সম্ভব নয়।
কিন্তু তাই বলে সবকিছু সহ্য করাও আপনার দায়িত্ব নয়।
সীমা মানে অন্য মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়।
সীমা মানে—
“আপনি কী করবেন, সেটা আমি ঠিক করতে পারি না।
কিন্তু আপনার আচরণের পরে আমি কী করব, সেটা আমি ঠিক করতে পারি।”
কেউ কটু কথা বললে তাকে থামাতে নাও পারেন।
কিন্তু বলতে পারেন—
“এভাবে কথা হলে আমি এই আলোচনা চালিয়ে যাব না।”
তারপর সত্যিই সরে আসতে পারেন।
এটাই boundary।
তাহলে সীমা টানবেন কীভাবে?
১. সব কথাকে সমান গুরুত্ব দেবেন না
রান্না নিয়ে মন্তব্য, চেহারা নিয়ে খোঁচা, তুলনা—
প্রতিটা কথার উত্তর দিতে গেলে
আপনার নিজের শক্তিই শেষ হয়ে যাবে।
তাই ব্যবহার করতে পারেন Low-engagement response—
“হুম।”
“ঠিক আছে।”
“দেখি।”
“ভেবে দেখব।”
ব্যাখ্যা নয়। তর্ক নয়। নিজেকে প্রমাণও নয়।
সব কথা আপনার প্রতিক্রিয়া দাবি করে না।
২. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট হোন
তবে সবকিছু চুপ করে সহ্য করারও দরকার নেই।
যেমন—
বাবার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ আটকে দেওয়া
আপনার টাকা বা আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কাজে বাধা
চলাফেরা বা যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ
সন্তানের সামনে অপমান
সন্তান নেওয়া বা শরীর নিয়ে জোর করা
এসব ক্ষেত্রে boundary হবে শান্ত, সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট।
“এই সিদ্ধান্তটা আমি নিজেই নেব।”
“সন্তানের সামনে আমাকে এভাবে বলা যাবে না।”
৩. তর্কে গেলে Broken Record ব্যবহার করুন
আপনি boundary বলার পর যদি বলা হয়—
“কেন?”
“আমরা তো তোমার ভালোর জন্য বলছি।”
“এত কথা শিখলে কোথা থেকে?”
তখন নতুন নতুন ব্যাখ্যা দেবেন না।
একই কথাটা শান্তভাবে ফিরিয়ে বলুন—
“আমি বুঝতে পারছি। তবুও সিদ্ধান্তটা আমি নেব।”
আবার প্রশ্ন এলে—
“আমি বুঝতে পারছি। তবুও সিদ্ধান্তটা আমি নেব।”
এটাই Broken Record technique।
লক্ষ্য কাউকে হারানো নয়।
লক্ষ্য নিজের অবস্থান থেকে না সরা।
৪. Boundary-এর সঙ্গে নিজের action রাখুন
শুধু—
“এভাবে কথা বলবেন না”—
বললে সবসময় কাজ নাও হতে পারে।
বরং বলুন—
“এভাবে কথা হলে আমি এখন কথা বলব না। পরে কথা বলব।”
তারপর সত্যিই সরে আসুন।
কারণ—
Boundary = পরিষ্কার কথা + ধারাবাহিক action।
আর নিজের সিদ্ধান্তের জন্য বারবার Justify, Argue, Defend, Explain (JADE) করারও দরকার নেই।
আপনার “না” সবসময় দীর্ঘ ব্যাখ্যা দাবি করে না।
৫. যেখানে নিয়ন্ত্রণ নেই, সেখানে শক্তি কমান
স্বামী বুঝবেন কি না,
শাশুড়ি বদলাবেন কি না,
অন্যরা আপনাকে কীভাবে বিচার করবেন—
এসব পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।
কিন্তু আপনার হাতে আছে—
আপনি কতটা কথা বলবেন,
কোন কথায় সাড়া দেবেন,
কোথা থেকে সরে আসবেন,
কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন,
নিজের জন্য কতটা সময় রাখবেন।
Circle of Control মনে রাখুন—
যেখানে আপনার ক্ষমতা আছে, শক্তি সেখানে দিন।
আর নিজের ভেতরের সীমাটাও রক্ষা করুন
দীর্ঘদিনের সমালোচনা একসময়
নিজের কণ্ঠস্বর বলে মনে হতে পারে।
কেউ বলল—
“তোমাকে দিয়ে কিছু হয় না।”
সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না।
নিজেকে বলুন—
“এটা তার মন্তব্য।
এটা আমার পরিচয় নয়।”
অন্যের কথা আপনার সম্পর্কে সত্যি হয়ে যায় না
শুধু আপনি অনেকবার শুনেছেন বলে।
তাই নিজের একটা জগৎও বাঁচিয়ে রাখুন—
একজন বন্ধু,
একটা কাজ,
একটা শখ,
নিজের পড়াশোনা বা পেশা।
আপনি শুধু কারও বউ বা বউমা নন।
আপনার নিজেরও একটা পরিচয় আছে।
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
সব সমস্যাকে “boundary issue” বলা যাবে না।
যদি থাকে—
শারীরিক আঘাত,
যৌতুকের চাপ,
জোর করে আটকে রাখা,
খাবার বা চিকিৎসা বন্ধ করা,
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা,
অথবা ঘরে থাকাটাই অনিরাপদ মনে হওয়া—
তাহলে প্রথম লক্ষ্য boundary নয়, safety।
বিশ্বস্ত মানুষকে জানান, প্রয়োজনে পেশাদার বা আইনি সহায়তা নিন এবং নিরাপদ থাকার বাস্তব পরিকল্পনা করুন।
শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে চলা মানেই
নিজেকে সবসময় চুপ করিয়ে রাখা নয়।
সম্মান দিতে পারেন।
দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তবুও নিজের সীমা রাখতে পারেন।
কারণ—
সীমা সম্পর্ক ভাঙার জন্য নয়।
সম্পর্কের ভেতরেও নিজেকে হারিয়ে না ফেলার জন্য।
মিশকাতুল জান্নাত এলিন
কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট | Soul Wellness
©