05/02/2025
আম্মু অসুস্থ! জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম!
কাউকে না জানিয়ে নিজের মাকে মেরে ফেলার সাইন করে দিলাম!
আম্মু বেশ কয়েকবছর যাবত অসুস্থ হার্টে প্রব্লেম বুক ব্যাথা, আরও বেশ কিছু প্রব্লেম আছে, আম্মুকে আমি দুইবার আই সি ইউ তে নিয়ে গিয়েছিলাম আগে, অনেক ঢাক্তার দেখানো হয়েছে মেডিসিন খাওয়ানো হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন একটু কমে তারপর আবার বেড়ে যায় ।
আজ কয়েকদিন যাবত আম্মুর অসুস্থতা বেড়ে গেছে, আম্মুকে প্রায় ২ মাস আগে ডাক্তার দেখাতে ঢাকা এনে আম্মুর অবস্থা আম্মু আব্বুকে আমার সাথে ঢাকায় রেখে দেয়, যেতে দেয়নি বাড়িতে ।
একটা কথা বলি এই আম্মু আমার দুনিয়া, আমার বেচে থাকার অনুপ্রেরণা, ভাই বোন পাঁচজন থাকলেও আমিই সব সময় কাজের সুবাদে দূরে দূরে থেকেছি তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে আপনার কাছে সব চেয়ে পছন্দের সন্তান আমি, যদিও আমি আম্মুর জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছে থাকলেও লাইফে অনেক কিছুই করতে পারিনি ।
সব সময় আম্মুর জন্য ঢাক্তার দেখানো, এক সাথে এক মাসের অষুধ কিনা কোনো মাসে যদি জব না থাকে বা আমার হাতে টাকা না থাকে দুই বা তিন মাসের অষুধ কিনে দিয়েছি, কিন্তু আম্মুর অসুস্থতা বুকের ব্যথা আমি খুব কাছে থেকেই দেখেছি, আম্মুর ব্যথাগুলো আমি খুব অনুভব করতে পারতাম, আম্মুর জন্য নিরবে অনেক কান্না করেছি যা কখনো লুকিয়ে রাখতাম অনেক সময় কান্না লুকিয়ে রাখতাম আম্মু যেনো বুঝতে না পারে কষ্ট পাবে ।
আম্মুর পছন্দ দুধ, মিষ্টি, সব সময় হিসাব করে করে খেতে বলতাম ঢাক্তারের নিষেধ ছিলো ।
আল্লাহ সহায় নাহলে আজকের পর থেকে আম্মুর সাথে আর কথা হতো না, আম্মু ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে এনজিওগ্রাম কড়ানোর জন্য গতকাল ভর্তি করা হয়, আম্মু অনেক ভয় পেয়ে গতকাল বেশ কয়েকবার কান্না করেছে, আব্বুও রাতে কল দিয়ে কান্না করলো আমি গতকাল যায়নি অনেক ব্যস্ততা কাজ ছিলো আর দ্বিতীয় আম্মুর কান্না আমি সহ্য করতে পারবোনা, আমি কান্না করলে আম্মু ভেঙ্গে পড়বে, কিন্তু কে জানতো আমার জন্য এর চেয়ে কঠিন কান্না অপেক্ষা করছে ।
আমার ইন্সটিটিউট International Cooking Institute নতুন ব্যাচের গতকাল লাইভ বেকারি কোর্স এর প্রথম ক্লাস নিয়েছিলাম আম্মু অসুস্থ আর আমি ক্লাস নিয়েছি ইচ্ছা না থাকা সত্বেও, গতকাল রাতে হুট করে আব্বুর কল আব্বুও কান্না করে বলছে আম্মু অনেক ভয় পাচ্ছে আব্বু সকালে যেতে পারবেনা এগুলো আব্বুর অনেক কষ্ট লাগছে আমাকে যেতে বলছে, সকাল বেলা আব্বু ঠিকই এসেছে আমাকে কল দিয়ে বলছে ৯ টায় পরিক্ষা, আমি তারাহুরো করে এসে দেখি আম্মু বসে আছে, আমার সাথে বেশ হাসিখুশি কথা বলেছে আমিও সাহস দেয়ার চেষ্টা করলাম, সাথে ছোট বোন গতকাল থেকেই ছিলো ।
আম্মুকে পরিক্ষা করার জন্য ঢুকানো হলো, আমি একটু বাইরে বের হলাম কাজে, তারমধ্যে কিছুক্ষণ পর বড় আপুর ফোন ভৈরব থেকে যে আম্মুর কি আশে পাশে কেউ নাই, দ্র্যুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে হবে হার্টে অনেক বড় প্রব্লেম রিং লাগাতে হবে ।
আমি দ্রুত কান্না করতে করতে বাইক নিয়ে দ্রুত ছুটলাম হসপিটাল এর দিকে একটুর জন্য বাচলাম বাসের সাথে হালকা লেগেছিলো, যাই হোক হসপিটাল এসে বোন আর আব্বুর কাছ থেকে শুনলাম আম্মুর একটা রিং পড়াতে হবে দেড় লাখ টাকা লাগবে ।
আমি বললাম ঠিক আছে ব্যাপার না, আমি কি করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না মাথা কাজ করছে না, পকেটে ক্যাশ যা ছিলো বললাম আব্বুকে জমা দিতে আমি চললাম বুথ থেকে টাকা তুলতে, এর ভিতর ঢাক্তার ও কোন দেশের রিং ও এই বিষয়ে ভালো করে জেনে নিলাম এক স্যারের কাছ থেকে ফোনে পরামর্শ নিলাম ।
রিংয়ের জন্য টাকা জমা দিতে আব্বু গেলো, আমি আর ছোট বোন গেলাম এক্সরে রিপোর্ট লাইভ দেখতে কম্পিউটারে আমাকে উনারা বললো, আমি অবস্থা অনেকটা খারাপ খুবই ক্রিটিকাল, যেকোনো সময় আরও বিপদ হতে পারে, রিং নাকি একটা পড়ানোর পর আরও একটা পড়ানো লাগতে পারে, আমি বললাম ঠিক আছে প্রব্লেম নাই আমাকে মাকে সুস্থ দেখতে চাই ।
ঢাক্তার বললো একটা প্রব্লেম আছে এমন জায়গায় রিংটা লাগাতে হবে এটা অনেক রিস্কি, এখন আমরা রিং লাগাবো কিনা সিদ্ধান্ত জানাতে হবে সাথে সাথে কোনো সময় নাই, রিস্কি বলতে এই রিং পড়াতে গিয়ে রুগি আর ফেরত নাও আসতে পারে, আমি কিছুই বুঝতেছি নিজের অজান্তেই চোখে পানি এসে গেলো প্রচুর কান্না চলে আসলো আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না, ছোট বোনকেও কান্না করছে, বলছে এখনি বলতে হবে অপারেশন হবে কিনা, কারো সাথে কথা বলার সময় নাই ।
লাইফের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হবে, যে মানুষটাকে এতটা ভালোবাসি যার জন্য বেচে আছি, যাকে ভালো রাখার জন্য এতটা পরিশ্রম এতোটা কষ্ট করি, সে নাকি আর কোনো দিন ফিরবে না, কথা বলবেনা, সেটার জন্য আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের একটা ফর্মে সাইন করতে হবে, শুধু আল্লাহর কাছে এটাই চেয়েছিলাম যে আল্লাহ আমাকে নিয়ে নাও আমার হায়াতটা আমার মাকে দাও, কাউকে কিছু না জানিয়ে সাইন করে দিলাম, কারণ উনারা বলেছে এই অপারেশন না করলে যে কোনো সময় দূর্ঘটনা হতে পারে, আব্বুকে বড় বোনকে কিছুই জানায়নি, আব্বু অনেক রাগি মানুষ হলেও আম্মুর জন্য অন্যরকম একটা ভালোবাসা আছে আব্বুকে বললে কান্না করতো, আব্বুকে ঢাক্তার রিংয়ের কথা বলার পর আব্বুকে যে কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম আব্বুর কথা একটাই টাকা বেশি নেক বা যাই হোক রিং লাগিয়ে ফেলতে আম্মু সুস্থ হয়ে যাবে, আম্মুর কষ্ট বুক ব্যথা অনেকদিনের এটা আব্বুর সহ্য হয়না ।
কাউকে না জানিয়ে নিজের মাকে মেরে ফেলার সাইন করে দিলাম!
আমি নিজের কান্না লুকিয়ে রাখতে পারছিনা, আম্মুর কিছু হয়ে গেলে এই দায় জীবনে কোনোদিন ভুলবো না, আব্বুর সামনে নিজেকে সামলিয়ে বলছি সব কিছু ঠিক আছে ঢাক্তার বলছে অপারেশন হয়ে যাবে সব নরমাল, তারমধ্যে আপু ভৈরব থেকে রওয়ানা দিয়েছে আপুকে জানালে কান্নাকাটি করবে তাই কাউকে কিছু না বলে সিড়ির এক কোনায় বসে অনেক সময় কান্না করেছি, আর আল্লাহর কাছে আমার মায়ের জীবন ভিক্ষা চেয়েছি ।
আমি বের হয়ে চলে গেলাম ব্যাংকে আরও কিছু টাকা তুলতে তারমধ্যে ছোট বোন ফোন দিয়ে জানালো ডাক্তার ডাকছে যাওয়ার জন্য, আম্মু নাকি ভালো আছে, বিপদ কেটে গেছে, তবে রিং একটাই লাগিয়েছে কাজটা ক্রিটিকাল হবার কারণে আরও কিছু টুকটাক জিনিস প্রয়োজন ছিলো যার জন্য এক্সট্রা ১০ হাজার চার্জ আসবে ।
আমি দ্রুত হসপিটাল এসে আম্মুকে দেখতে গেলাম কান্না লুকিয়ে হাসি মুখে আম্মুর সাথে দুই মিনিট কথা বললাম আমাকে দেখে আম্মুও একটু সাহস পায়, অপারেশন আগে আম্মুকে দেখা যাবে বলার পর উনারা আমার কান্না দেখে আমাকে দেখা করার সুযোগ দিয়েছিলো, আম্মু অপারেশন অনেক ভয় পায়, আম্মুকে বিষয়টি না জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া, আম্মুকে রিং পড়ানো, আলহামদুলিল্লাহ আম্মু এখন বেশ কিছুটা সুস্থ আল্লাহর রহমতে, আই সি ইউ তে বেড রেস্টে আছে আরও দুইবার দেখে আসলাম আপুরা ভৈরব থেকে চলে আসছে ।
আল্লাহ তুমার রহমতে মাকে ফিরে পেলাম, সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন, 😥
আম্মুর সাথে আজ গতকাল সকালে কান্না লুকিয়ে একটা হাসি মাখা ছবি ❤️