23/11/2025
বাংলাদেশ ৯ মাত্রয় ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে এই আমল করুন
১. ভূমিকম্প আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কতা
হাদিস
عَنْ أَبِي دَاوُدَ – হাদিসটি সনদসহ এসেছে:
> وَمَا تَزُولُ سَاعَةٌ وَلَا زَلْزَلَةٌ وَلَا بَلِيَّةٌ إِلَّا بِذَنْبٍ، وَمَا يُرْفَعُ إِلَّا بِتَوْبَةٍ
“যে কোনো ভূমিকম্প, বিপদ–আপদ মানুষের গুনাহের কারণে ঘটে; আর তা দূর হয় তাওবা করার মাধ্যমে।”
— সুনান আবু দাউদ (رقم: 4339) – মুরসাল তবে অর্থে সহিহ, ইবন কাসীর ও আলবানী সমর্থন
---
📌 ২. ভূমিকম্পকে ‘আল্লাহর ভয় দেখানো’ বলা হয়েছে
হাদিস (সহিহ)
> عَنْ عُمَرَ
أنه لَمَّا وَقَعَتِ الزَّلْزَلَةُ بِالْمَدِينَةِ خَطَبَ النَّاسَ وَقَالَ: لَوْ عَادَتْ لَا سَكَنْتُ مَعَكُمْ فِيهَا
“মদিনায় ভূমিকম্প হলে উমর (রা.) খুতবা দিয়ে বললেন:
‘তোমাদের মধ্যে এমন কাজ হয়েছে যাতে আল্লাহ তোমাদেরকে ভয় দেখিয়েছেন। যদি আবার ঘটে, আমি মদিনায় তোমাদের সঙ্গে থাকব না।’”
— ইবন أبي شيبة، المصنّف 12/179; ইসনাদ صحيح
এটি উমর রা. এর فهم অনুযায়ী ভূমিকম্প হলো مخوف من الله — আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কতা।
---
📌 ৩. পাপের কারণে জমিন ধ্বসানো/কম্পন হওয়ার পূর্বাভাস
সহিহ হাদিস
> لَيَكُونَنَّ فِي أُمَّتِي خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ
“আমার উম্মতের মধ্যে ধ্বসিয়ে দেওয়া (খসফ), রূপান্তর (মাসখ), এবং পাথর নিক্ষেপ (কাযফ) ঘটবে।”
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করল:
مَتَى ذَاكَ؟
কবে ঘটবে?
তিনি ﷺ বললেন:
> إِذَا ظَهَرَتِ الْقَيَانِي وَالْمَعَازِفُ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ
“যখন গায়িকা নারী, বাদ্যযন্ত্র, এবং মদ প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়বে।”
— সুনান তিরমিজি 2212; সহিহ ইবন হিব্বান 6757; আলবানী: صحيح
এটি ভূমিকম্প ও ধ্বসের প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে আকিদাগত শিক্ষা দেয়।
---
📌 ৪. পৃথিবী কম্পন কেয়ামতের আলামত
কুরআন
> إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا
“যখন পৃথিবী তার ভয়ানক কম্পনে কম্পিত হবে।”
— সূরা যিলযাল
হাদিস
> تَكْثُرُ الزَّلَازِلُ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ
“বহুল ভূমিকম্প কেয়ামতের আলামতসমূহের একটি।”
— সহিহ বুখারি, كتاب الفتن
---
📌 ৫. আল্লাহ ta’ala বান্দাদের সতর্ক করেন
হাদিস
> ما نَزَلَ بَلاءٌ إِلَّا بِذَنْبٍ، وَلا رُفِعَ إِلَّا بِتَوْبَةٍ
“কোনো দুর্যোগ গুনাহ ছাড়া আসে না; আর তা দূর হয় তাওবা ছাড়া না।”
— মুসনাদ আহমদ ১/২৪৭ (حسن)
---
📌 ৬. ভূমিকম্পের সময় কী করা উচিত?
যদিও কোনো বিশেষ দোয়া সম্পর্কিত হাদিস নেই, তবে বিধিবদ্ধ সুন্নাহ হলো:
(১) বেশি বেশি توبة – ইস্তেগফার করা
> اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ — গুনাহের কারণে আজাব আসে।
(২) صدقة দেওয়া
আযাব দূর হওয়ার সবচেয়ে বড় আমল।
(৩) আল্লাহর ভয় অনুভব করা ও নিজেকে ঠিক করা
উমর রা. ভূমিকম্পে সাহাবীদের বলতেন—
> هذه معاصيكم
“এটি তোমাদের গুনাহের ফল।”
(৪) নামাজ, বিশেষত নফল সালাত
যেমন সূর্যগ্রহণে নবী ﷺ নফল সালাত পড়তেন—
> فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلَاةِ
“তোমরা নামাজের দিকে ছুটে যাও।”
— সহিহ বুখারি