01/09/2026
৫০০ টাকায় টেস্টি ট্রিটের মতো কেক চায় মানুষ—মানে কী বলবো আর!🙂
আজকে কাস্টমারের দেওয়া রেফারেন্স পিকচার দেখে টেস্টি ট্রিটের এই কেকটা রিক্রিয়েট করলাম। ❤️
তাই ভাবলাম, বেকিং লাইফের কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
আমি যেখানে থাকি, সেখানকার তিনজন একদিন আমার কাছে চকলেট কেক অর্ডার করলেন। আমার চকলেট কেকের রেগুলার প্রাইস ৬৫০ টাকা/পাউন্ড। দাম বলতেই তারা যেন আকাশ থেকে পড়লেন! 😐
একজন তো সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন—
“এক পাউন্ডে কতটুকু হয়? এক পাউন্ডে কি এক কেজি পাওয়া যাবে?” 🥲
এরপর শুরু হলো দামাদামি। তিনটা কেক, এক পাউন্ড করে—সব মিলিয়ে ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ ৫০০ টাকা করে।
যেহেতু প্রতিবেশী, ভাবলাম একটু ছাড় দেওয়া যাক। না হলে আবার ভাববে, পাশের বাসার মানুষ হয়ে এতটুকু ছাড়ও দিল না! 😅
শেষ পর্যন্ত তিনটা কেক একদিনেই বানিয়ে দিয়ে দিলাম।
কিন্তু আসল গল্প শুরু হলো কেক দেওয়ার কয়েকদিন পর। তাদের একজনের সাথে দেখা হতেই বললেন—
“আপু, আপনার গানাশ তো পাতলা!”
আমি তো অবাক! 😶
কারণ উনি যেটাকে চকলেট সিরাপ ভাবছেন, সেটা আসলে চকলেট গানাশ। আর কাস্টমারের চাওয়ামতোই গানাশ দিয়েছিলাম।
উনি বললেন,
“আমরা তো প্রায়ই টেস্টি ট্রিট থেকে কেক কিনে খাই। ওখানে চকলেট গানাশ অনেক মোটা লেয়ারে থাকে। আপনি মনে হয় শুধু চকলেট সিরাপ দিয়েছেন!”
তখন আমি বললাম,
“আপনারা তো কেক নেওয়ার সময় ৫০০ টাকার মধ্যে কেক চেয়েছিলেন। আমি সেই বাজেট অনুযায়ীই কেক দিয়েছি। টেস্টি ট্রিটে তো ৫০০ টাকায় এক পাউন্ড কেক পাবেন না!”
তখন উত্তর এলো—
“টাকা তো কোনো ব্যাপার না!” 🙂
অথচ কেক নেওয়ার সময় সেই ৫০০ টাকার জন্য যে পরিমাণ দরদাম—সেটা কিন্তু টাকা যে ব্যাপার, সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিল! 😂
আর এখানেই শেষ না, এর মধ্যে আরও একটা টুইস্ট ছিল। 🙃
কেক অর্ডার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ইচ্ছা ছিল, আমি নাকি তাদের কেক বানানোও শিখিয়ে দেব!
মানে আমার যখন অন্য অর্ডার থাকবে, তারা পাশে থেকে আমার কাজ দেখে দেখে শিখবে।
আমি অবশ্য শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছি—এটা সম্ভব না।
কারণ বিজনেস আর শেখানো—দুটো আলাদা বিষয়।
আমি আমার কাজের মূল্য, সময়, পরিশ্রম—সবকিছুর হিসাব করেই প্রাইস নির্ধারণ করি।
এই অভিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে শিখেছি—
আপনার বিজনেসে কাউকে ছাড় দিতে হলে ভেবেচিন্তে দেবেন।
কারণ অনেক সময় আপনি যেটাকে ভালো ব্যবহার বা সহযোগিতা মনে করে ছাড় দিচ্ছেন, অন্যপক্ষ সেটাকেই আপনার দুর্বলতা হিসেবে ধরে নিতে পারে।