31/05/2026
রংপুর শহর থেকে ৩ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। প্রায় ২১০ ফুট প্রশস্ত ও চারতলা সমান এই রাজপ্রাসাদটি ১৯০৮ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় নির্মাণ করেন।
নামকরণ:
জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা মান্না লাল রায় পাঞ্জাব থেকে রংপুরে এসে স্বর্ণ ও রত্নখচিত টুপির (তাজ) ব্যবসা করতেন। তাঁর ওই আকর্ষণীয় তাজ বা মুকুটের ব্যবসা থেকেই অঞ্চলটির নাম 'তাজহাট' (তাজ/টুপি + হাট/বাজার) হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি:
প্রতিষ্ঠাতা: রত্ন ব্যবসায়ী মান্না লাল রায়। পরবর্তীতে তাঁর বংশধর ও দত্তক পুত্র মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় তৎকালীন প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এবং প্রায় ২ হাজার রাজমিস্ত্রির সহায়তায় এই বিশাল প্রাসাদটি নির্মাণ করেন।স্থাপত্যশৈলী: প্রাসাদটি ইউরোপীয়, কলোনিয়াল ও মুঘল স্থাপত্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এর সামনে রয়েছে ইতালীয় মার্বেল পাথরের তৈরি সিঁড়ি এবং চমৎকার ফোয়ারা। বাড়িটির গঠনশৈলী দেখতে ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মতো।।
বর্তমান রূপ: ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভবনটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৫ সালে প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় রংপুর জাদুঘরটি স্থানান্তরিত করা হয়।
জাদুঘরে বর্তমানে দশম ও একাদশ শতাব্দীর পোড়ামাটির ফলক, সংস্কৃত ও আরবি ভাষায় লেখা প্রাচীন পান্ডুলিপি (যার মধ্যে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ব্যবহৃত কোরআন শরীফও রয়েছে) এবং কালো পাথরের বিষ্ণু মূর্তি সংরক্ষিত আছে।।।।
📍 সংক্ষেপে
তাজহাট জমিদার বাড়ি রংপুরের সবচেয়ে পরিচিত ও আকর্ষণীয় জমিদার বাড়ি।
এটি এখন জাদুঘর ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে রয়েছে।
অন্যান্য জমিদার বাড়ি‑গুলোর মতো এটি রংপুরের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্যিক গুরুত্ব বহন করে।