05/07/2025
দুইজন একই গুনাহ করেছে। শাস্তি দুইজনের একই হতে পারত। কিন্তু হবে না।।
কেন??
প্রথমজন গুনাহ করেছে, কিন্তু সে কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়েছে। গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে সবার আড়ালে একান্তে জিজ্ঞেস করবেন, “তোমার কি এই এই গুনাহের কথা মনে আছে?” সে বলবে, “হ্যাঁ আমার রব! আমি স্বীকার করছি।”
আল্লাহ তা‘আলা তখন বলবেন, “আমি দুনিয়াতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম আর আজকেও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।” (বুখারি, হাদিস নংঃ ৪৪০৮)
আর যে নিজের গুনাহ প্রচার করে বেড়িয়েছে? ফেইসবুকে In a relationship with X, Watching Y Movie, Listening to Z Track- লিখে বেড়িয়েছে, বন্ধুদের সাথে রসালো আলাপে গার্লফ্রেন্ডের সাথে কী কী করেছে তা বলেছে, ল্যাপটপে কয় জিবি পি-টাইপ জিনিসপত্র আছে তা স্বগর্বে বলে বেড়িয়েছে, তার ব্যাপারে কী বলা আছে?
রাসূল (সা) বলেছেন, “আমার উম্মাতের মধ্যে মুজাহারা ছাড়া সকলকে ক্ষমা করা হবে। মুজাহারা হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে রাতে কোনো গুনাহ করেছে আর আল্লাহ তার অপকর্মকে গোপন রাখলেন।
কিন্তু লোকটি সকালে লোকদের ডেকে বলতে থাকল, ‘হে অমুক আমি রাতে এই এই… কাজ করেছি।’ রাতে তার রব তাকে গোপন করল আর সকালে সে আল্লাহর গোপন করা বিষয় প্রকাশ করে দিল।” (বুখারি, হাদিস নংঃ ৫৭২১)
যারা গুনাহ প্রকাশ করে তাদের জন্য এমন ভয়াবহ শাস্তি কেন? কারণ, একে তো তারা আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমার কোনো তোয়াক্কা করেনি, তারপর আবার মানুষকে ডেকে ডেকে সে গুনাহের কথা জানিয়েছে। যেন আল্লাহকে মেসেজ দেয়া, “তোমার বিধানে যা ইচ্ছা থাকুক, I don’t care।”
(নাউজুবিল্লাহ)
শুধু যে সে নিজে গুনাহ কামাচ্ছে তা না, তার দ্বারা অনেকে এই খারাপ কাজটি করতে প্ররোচিত হতে পারে। বন্ধুর কাছ থেকে বিশেষ সিরিজের নাম শুনে পরবর্তীতে নেটে সেটা খুঁজতে গিয়ে নীল জগতের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে, এমন দৃষ্টান্ত বহু আছে। বহন করার জন্য তো নিজেদের গুনাহ-ই যথেষ্ট। কী দরকার আরেকজনের গুনাহ স্বেচ্ছায় বহন করা?
ভাইয়েরা! আমরা যদি রাস্তায় পথ চলতে চলতে জামা-কাপড় খারাপ করে ফেলি, তবে কি তা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াই না আড়াল করার চেষ্টা করি?
আল্লাহকে অমান্য করা তো তার চেয়ে বেশি লজ্জার। বেশি অপমানের। কেন তা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াতে হবে?
আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুক।
আমিন 🤲